ইসলাম কী? ইসলামের ইতিহাস কী? জেনে নিন ইসলামের মূল শিক্ষা আর ইসলামিক জীবন বিধান সম্পর্কে
ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয় বরং ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যেটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক আর সহজ দিকনির্দেশনা দেয়📍
ইসলামের মূল বার্তা হলোঃ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং মানবতার প্রতি দয়া আর সমাজে সত্য ন্যায়বিচার ইত্যাদি প্রচার করা ইত্যাদি📍
ইসলামী সংস্কৃতি আর শিক্ষা আজো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছে📍
আজকের এই ব্লগে আপনি জানতে পারবেন 👇
ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বর্ণনা? ইসলাম কি আর ইসলামের সূচনা কবে? ইসলামের সংজ্ঞা আর বৈশিষ্ট্য? পবিত্র কোরআনের গুরুত্ব কতটুকু? পবিত্র হাদিসের গুরুত্ব কতটুকু? ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ কী কী? ইসলামের নৈতিক শিক্ষা কী? ইসলামি জীবন সম্পর্কে ইসলামের বিধান কী? আধুনিক জীবনে ইসলামের প্রভাব কতটুকু আর কী কী? এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
যারা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো জানতে আগ্রহী আছেন তাদের জন্য আজকের এই প্রতিবেদনটি একটি তথ্যবহুল লেখা হিসেবে কাজ করবে📍
ইসলাম কী?
ইসলাম একটি আরবি শব্দ এবং যার অর্থ হলোঃ আত্মসমর্পণ বা শান্তি। ইসলাম এমন একটি ধর্ম যা বিশ্বাস করে একজনই হলেন সৃষ্টিকর্তা আর তিনি হলে একমাত্র দয়াময় মহান আল্লাহ। ইসলাম আরো বিশ্বাস করে আল্লাহ আছেন এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আস্থা আর আনুগত্যই হচ্ছে প্রকৃত ধর্মাচরণ। ইসলাম ধর্মের যারা অনুসারী তাদেরকে বলা হয় মুসলিম বা মুসলমান।ইসলামের সূচনার ইতিহাস
ইসলামের সূচনা কবে হয়েছিলো?
ইসলামের সূচনা মূলত হযরত আদম (আঃ) এর সময় থেকেই হয়েছে। যিনি ছিলেন মানবজাতির প্রথম মানুষ আর সর্বপ্রথম নবী। আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন এবং তাওহীদের অর্থাৎ এক আল্লাহর উপাসনার শিক্ষা দিয়েছিলেন। এরপরঃ কালের পরিক্রমায় বিভিন্ন জাতির মাঝে বহু নবী আর রাসূল প্রেরিত হন যারাঃ সবাই এক আল্লাহর ইবাদত আর ন্যায়নীতির শিক্ষা দেন। হযরত নূহ (আঃ) হযরত ইব্রাহিম (আঃ) হযরত মূসা (আঃ) হযরত ঈসা (আঃ) সকলেই ইসলামের মূল বার্তা বহন করেন। এরপরঃ সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ইসলামের পূর্ণতা আর চূড়ান্ত রূপ নিয়ে আসেন। তাই ইসলাম কোনো নতুন ধর্ম নয় বরং এটি এক চিরন্তন জীবনব্যবস্থা যাঃ মানব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত।
👉 বর্তমানে ইসলাম বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। যার অনুসারী প্রায় ২০০ কোটির বেশি। ইসলামের ইতিহাস মানবতার জন্য শান্তি আর ন্যায়বিচার পাশাপাশিঃ সাম্যের বার্তা বহন করে📍
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ
ইসলামী জীবনের মূল ভিত্তি
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ অর্থাৎ أركان الإسلامমুসলিম জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত📍
এই ইসলামের মূল ভিত্তিগুলোঃ মানুষের বিশ্বাস এবং ইবাদত আর নৈতিক আচরণের মৌলিক নির্দেশনা প্রদান করে। প্রতিটি মুসলমানের জন্য এই স্তম্ভগুলো পালন করা ফরজ মানে আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক এবং এগুলোর মাধ্যমে একজন মানুষ পরিপূর্ণ ইসলামী জীবন গঠন করতে পারে। এই পাঁচটি ভিত্তি ছাড়া একজন মানুষ কোনোভাবেই পরিপূর্ণ মুসলিম হতে পারে না বা পারবে না।
1️⃣ কালেমা ঈমান
এই স্তম্ভের মূল কথা হলোঃলা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ বা উপাস্য নেই আর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল
কালেমা হলোঃ ইসলামের প্রধান বিশ্বাস এবং একজন মুসলমানের প্রথম পরিচয়📍
2️⃣ সালাত বা নামাজ
এই স্তম্ভের মূল কথা হলোঃ প্রতিদিন পাঁচওয়াক্ত বা পাঁচবার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ আর আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর স্মরণ পাশাপাশিঃ ধর্মীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার মাধ্যম📍
3️⃣ সাওম বা রোজা
এই স্তম্ভের মূল কথা হলোঃ রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত অর্থাৎ সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার আর ভোগবিলাস থেকে বিরত থাকা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ পাশাপাশিঃ সহানুভূতি আর তাকওয়া অর্জনের একটি উপায় বা মাধ্যম📍
4️⃣ জাকাত বা দান
এই স্তম্ভের মূল কথা হলোঃ নিজের সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ অর্থাৎ সাধারণত ২.৫% গরীব আর অসহায় হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা আর যাকাত হলোঃ সামাজিক সাম্য এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম একটি হাতিয়ার📍
5️⃣ হজ্জ পবিত্র মক্কা ভ্রমণ আর পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করা
এই স্তম্ভের মূল কথা হলোঃ সক্ষম অর্থাৎ যাদের টাকা পয়সা আছে সেই সকল মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ্জ পালন করা ফরজ আর হজ্জ হলোঃ ইসলামী ঐক্য এবং আত্মসমর্পণ পাশাপাশিঃ কৃতজ্ঞতার স্বীকারের প্রতীক📍
ইসলামের ভিত্তিতে কোরআন আর হাদীসের গুরুত্ব কতটুকু?
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা যারঃ মৌলিক দুটি ভিত্তি হলো পবিত্র কোরআন আর হাদীস শরীফ। এই দুটি উৎস মুসলিম জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা দেয় আর বিশ্বাস, ইবাদত, নৈতিকতা ইত্যাদি এবং ইসলামি আইন কানুনের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।এককথায়ঃ পবিত্র কোরআন হচ্ছে ইসলামের মূল আইন আর পথনির্দেশক পাশাপাশিঃ পবিত্র হাদীস হচ্ছে কোরআনের বাস্তব প্রয়োগ আর প্রাকটিক্যাল ব্যাখ্যার মাধ্যম📍
ইসলামে কোরআনের গুরুত্ব
কোরআনুল কারীম হলো আল্লাহর নাজিলকৃত বাণী। যাঃ হযরত জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে সর্বশ্রেষ্ট মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কুরআনুল কারিম মানবজাতির জন্য একটি পরিপূর্ণ গাইডলাইন বা বিধান। যেখানেঃ আখলাক বা ইবাদত, পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি, বিজ্ঞানসহ সব বিষয়ে দিকনির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ বলেনঃ এই কিতাব এতে কোনো সন্দেহ নেই আর মুত্তাকিদের জন্য এই কিতাব পথনির্দেশক।সূরা বাকারাঃ আয়াত ২
ইসলামে হাদীসের গুরুত্ব
হাদীস শীফ হলো মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র বাণী এবং মহানবী (সাঃ) সকল কাজ বা মৌন সম্মতির সংকলন। কোরআনের পর হাদীস শরীফ হলোও ইসলামের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। কোরআনের অনেক আয়াতের বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা, বাস্তব জীবনে প্রয়োগের পদ্ধতি হাদীস থেকেই জানা যায়।সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সহীহ তিরমিযী, সহীহ ইবনে মাজাহ ইত্যাদি হাদীসদের সংকলন ইসলামী জ্ঞানের অমূল্য সম্পদ হিসেবে পরিচিত।
ইসলামের নৈতিক শিক্ষা
ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্মই নয় বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ নৈতিক জীবনব্যবস্থা। ইসলামের নৈতিক শিক্ষা মানুষকে সত্যবাদিতা, ধৈর্য, সহানুভূতি, দানশীলতা আর ন্যায়বিচার এবং বিনয়ী আচরণের প্রতি সবসময় উৎসাহিত করে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেনঃ
আমি নৈতিক চরিত্র পরিপূর্ণ করতে প্রেরিত হয়েছি।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক
ইসলামে সততা আর বিশ্বস্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা কথা বলা, প্রতারণা, গীবত, অহংকার কঠোরভাবে ইসলামে নিষিদ্ধ আর পারস্পরিক সহানুভূতি ও প্রতিবেশীর হক আদায় ও পশু পাখির প্রতি দয়াশীল হওয়ার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে।
কোরআনুল কারীমে বলা হয়েছেঃ
নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার এবং সৎকর্ম আর আত্মীয়তার হক আদায়ের আদেশ দেন📍
সূরা নাহলঃ আয়াত ১৬
এই নৈতিক মূল্যবোধ শুধু ব্যক্তিজীবন নয়! বরং সমাজে শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আধুনিক জীবনে ইসলামের প্রভাব কতটুকু?
শান্তি ∞ নৈতিকতা ∞ সমাজগঠন
ইসলাম কেবল অতীতের ধর্মীয় আন্দোলন নয়! বরং
ইসলাম আজো আধুনিক জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে! তথ্যপ্রযুক্তি, বৈশ্বিকরণ, সামাজিক পরিবর্তনের যুগে ইসলাম তার মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা আর মানবিক নির্দেশনার মাধ্যমে আধুনিক সমাজে স্থিতিশীলতা আর ভারসাম্য আনে।
ইসলামের শিক্ষা যেমনঃ সততা, ন্যায়বিচার, দয়া আর পারস্পরিক সহানুভূতি এবং সাম্য ইত্যাদি এগুলো আধুনিক সমাজে সামাজিক বন্ধন জোরদার করে। পরিবার ব্যবস্থায় ইসলামের গুরুত্ব আজো দৃশ্যমান যেখানেঃ পিতা, মাতা, সন্তান, আত্মীয়দের প্রতি একজন মানুষের দায়িত্ববোধ স্পষ্টভাবে নির্ধারিত।
ব্যবসা বাণিজ্যে ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক নীতিমালা যেমনঃ সুদের বিরোধিতা আর হালাল পথে আয় করার প্রতি গুরুত্ব একটি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে গড়ে তোলে।
আধুনিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশগত চিন্তাতে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে অনন্য আর পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা, জ্ঞানার্জনের গুরুত্বসহ সবদিকেই ইসলামের প্রভাব বিস্তার রয়েছে।
আজকের জগতে ইসলাম শুধুই একটি ধর্ম নয় বরং ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শন ব্যবস্থা যা মানুষকে শান্তি আর ভারসাম্য এবং মানবতাবোধের পথে সবসময় পরিচালিত করে।
ইসলামের দৃষ্টিতে নারী আর পুরুষের মর্যাদা
ইসলামের দৃষ্টিতে নারী আর পুরুষের দায়িত্ব
ইসলাম নারী আর পুরুষ উভয়কেই আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে সবাইকে সমান মর্যাদা এবং সম্মানের অধিকারী করেছে। ইসলাম বিশ্বাস করেঃ নারী আর পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক কিন্তু প্রতিযোগী নয়। উভয়ের জন্যই রয়েছে ইবাদত, নৈতিকতা, শিক্ষা আর আচার আচরণের নির্দিষ্ট নির্দেশনা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেনঃ
আমি তোমাদের পুরুষ আর নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত হলো সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি। সূরা হুজরাতঃ আয়াত ৪৯
এই কুরআনের আয়াত স্পষ্ট করে যেঃ আল্লাহর কাছে মর্যাদার ভিত্তি হলোঃ তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্থাৎ লিঙ্গ নয়। ইসলাম নারীকে দিয়েছে শিক্ষা, সম্পত্তির অধিকার, বিবাহের স্বাধীনতা আর মাতৃত্বকে দিয়েছে ইসলামের সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকার।
অন্যদিকেঃ পুরুষকে পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিন্তু এটি কর্তৃত্ব নয় বরং দায়িত্ব আর জবাবদিহির বিষয়। নারী কর্মজীবী হতে পারে তবেঃ ইসলামের নিয়মকানুন অনুযায়ী শালীনতা আর ইসলামিক আদর্শকে মেনে হতে হবে।
মহানবী (সাঃ) বলেছেনঃ
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে তার নিজের স্ত্রীর প্রতি সবসময় উত্তম আচরণ করে।
সহীহ তিরমিযী
ইসলাম একটি সম্পূর্ণ পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা যাঃ মানুষকে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা আর মানবতার প্রতি সঠিক দায়িত্ব পালনের শিক্ষা দেয়। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা জানলে বিশ্বে শান্তি এবং সৌহার্দ্য আরো খুব সহজেই প্রতিষ্ঠা পাবে।
কুরবানি সম্পর্কে জানতে আরো পড়ুন 👇
FAQ ইসলাম সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন আর উত্তর
ইসলাম কীভাবে শান্তির ধর্ম?
ইসলাম শান্তির ধর্ম কারণঃ এটি ন্যায় আর সহানুভূতি পাশাপাশিঃ মানবতার বার্তা দেয়। ইসলাম শব্দের মূল অর্থই হলো শান্তি। এটি অন্যায় থেকে বিরত থাকা আর পরোপকার করা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে যাঃ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসলামে নারী আর পুরুষের অধিকার কতটুকু?
ইসলামে নারী আর পুরুষ উভয়ের অধিকার সুষ্পষ্ট পাশাপাশিঃ অনো সম্মানজনকভাবে নির্ধারিত। উভয়েরই শিক্ষা, সম্পদ, উত্তরাধিকার, বিবাহ আর নিজস্ব মতামতের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ইসলাম নারীকে মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেয় এবং ন্যায়বিচার আর সমতার মাধ্যমে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ নির্ধারণ করে।
ইসলামে নারী আর পুরুষ উভয়ের অধিকার সুষ্পষ্ট পাশাপাশিঃ অনো সম্মানজনকভাবে নির্ধারিত। উভয়েরই শিক্ষা, সম্পদ, উত্তরাধিকার, বিবাহ আর নিজস্ব মতামতের সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ইসলাম নারীকে মা, বোন, স্ত্রী, কন্যা হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেয় এবং ন্যায়বিচার আর সমতার মাধ্যমে পারস্পরিক দায়িত্ববোধ নির্ধারণ করে।
কোরআন কীভাবে আল্লাহর বাণী?
কোরআন হলো ইসলামের প্রধান ধর্মগ্রন্থ যাঃ সরাসরি আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে হজরত জিবরাঈল (আঃ) এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নিকট অবতীর্ণ হয়। এটি ২৩ বছরে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ধাপে ধাপে নাজিল হয়। কোরআনের ভাষা এবং বক্তব্য আন অলৌকিকত্ব প্রমাণ করে যে পবিত্র কুরআন মানবসৃষ্ট নয় আর আল্লাহ নিজেই বলেছেনঃ এটি সেই কিতাব এতে কোনো সন্দেহ নেই।
একজন মুসলমানের জীবন কেমন হওয়া উচিত?
একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবন হওয়া উচিতঃ ইবাদত কেন্দ্রিক, সৎকর্মে ভরপুর, সততা, সহানুভূতি এবং পারিবারিক আর সামাজিক দায়িত্ববোধে পরিপূর্ণ। তিনি অন্তরে আল্লাহর ভয় নিয়ে চলবেন। ইসলামিক শিষ্টাচার মানবেন ও পরিবার ও সমাজে ন্যায়কে ন্যায় আর অন্যায়কে অন্যায় বলে লোক সমাজে শান্তির বার্তা ছড়াবেন।
ইসলাম অন্যান্ন ধর্মের প্রতি কী দৃষ্টিভঙ্গি করে?
ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং অন্যান্ন ধর্মের প্রতি সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। কোরআনে বলা হয়েছেঃ ধর্মের বিষয়ে কোনো জবরদস্তি নেই। ইসলাম বিশ্বাস করেঃ প্রতিটি জাতির জন্য নবী প্রেরিত হয়েছে এবং সকলের প্রতি ন্যায় আর সদাচরণ বজায় রাখতে বলা হয়েছে।