শাবান মাস হলোঃ ইসলামী হিজরি ক্যালেন্ডারের অষ্টম মাস যা রমজানের পূর্বপ্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান মাস বা সময় আর শাবান মাসে বান্দার নেক আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয় আর রাসূল ﷺ শাবান মাসে বিশেষ বিশেষ নফল ইবাদত আর নফল রোজা রাখতেন। শাবান মাসে বেশি বেশি করে নফল নামাজ, রোজা, দোয়া, দুরুদ, জিকির, ইস্তিগফার আর বেশি বেশি করে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা আর দান সদকা করা ইত্যাদি অন্যান্ন ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার জন্য অনন্য সুযোগ তৈরি করে আর সেজন্যঃ শাবান মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে কিন্তু মুসলমানরা রমজান মাসকে আরো অনেক বেশি অর্থবহ আর ফলপ্রসূ করতে পারে। এই ব্লগে আমরা শাবান মাসের পরিচয়, ফজিলত, করণীয় আমল ও সতর্কতার বিষয়গুলো বিশদভাবে আলোচনা
শাবান মাস কী ????? শাবান মাসের পরিচয়
শাবান মাস হলোঃ ইসলামী হিজরি সনের অষ্টম মাস যা রজব আর রমজান মাসের মধ্যবর্তী অত্যন্ত ফজিলতের মাস বা সময় যা মুসলমানদের জন্য আত্মপরিপূর্ণতা আর ইবাদতের প্রস্তুতির সময় হিসেবে বিবেচিত। হাদিসের আলোকে জানা যায় যে শাবান মাসে বান্দার আমল মহান আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় আর সেজন্যঃ রাসূল ﷺ শাবান মাসকে বিশেষ মূল্য দিতেন আর শাবান মাসে বেশি বেশি করে নফল ইবাদত আর রোজা পালন করতেন। শাবান মাস মূলতঃ রমজান মাসের জন্য প্রস্তুতির মাস যেখানে মুমিন মুসলমানরা নিজেদের আমলকে সংশোধন করে রমজান মাসকে সঠিকভাবে গ্রহণ করার সুযোগ পায়।
কুরআন আর হাদিসের আলোকে শাবান মাসের ফজিলত
কুরআন আর হাদিসের সম্মিলিত আলোচনায় শাবান মাসের ফজিলত সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। কুরআনে সরাসরি শাবান মাসের নাম উল্লেখ নেই তবেঃ নেক আমল বৃদ্ধি আর তাওবা বা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের যে নির্দেশ কুরআনে রয়েছে শাবান মাস সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের অনন্য মূল্যবান সময়। মহান আল্লাহ বলেনঃ তিনি তাওবাকারীদের আর পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। হাদিসের বর্ণনায় শাবান মাসের বিশেষ ফজিলত স্পষ্টভাবে রয়েছে। রাসূল ﷺ শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখতেন আর অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত করতেন। হজরত আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ রাসূল ﷺ শাবান মাসে অনেক বেশি রোজা রাখতেন যে মনে হতো পুরো মাসই রোজা রাখছেন। আরেক হাদিসে রাসূল ﷺ বলেনঃ শাবান মাস হচ্ছে সেই মাস যখন মানুষের আমল মহান আল্লাহর কাছে পেশ করা হয় আর সেজন্যঃ রাসূল ﷺ চাইতেন রোজা অবস্থায় যেনো আমল মহান আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক। কুরআন আর হাদিসের আলোকে বুঝা যায় যে শাবান মাস ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য ফজিলতের মাস বা সময়।
শাবান মাসে নফল ইবাদতের ফজিলত
শাবান মাসে নফল ইবাদতের ফজিলত কিন্তু অত্যন্ত বেশিই রয়েছেঃ হাদিসে প্রমাণিত যে রাসূল ﷺ শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় কিন্তু অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত আর অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখতেন কারণঃ শাবান মাস হচ্ছে সেই মাস যখন মানুষের আমল মহান আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। শাবান মাসে বেশি বেশি করে নফল নামাজ, রোজা, দোয়া, দুরুদ, জিকির, ইস্তিগফার আর বেশি বেশি করে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা আর দান সদকা করা ইত্যাদি অন্যান্ন ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। শাবান মাসে নফল ইবাদতে অভ্যস্ত হলে কিন্তু রমজান মাসের ফরজ ইবাদত সহজ হয়ে যায় আর সেজন্যঃ শাবান মাস নফল ইবাদতের অনুশীলন আর আত্মপরিপূর্ণতার অনন্য মূল্যবান সুযোগ।
শাবান মাসের করণীয় আমল কী কী ?????
শাবান মাস মুমিনের জন্য আত্মপরিপূর্ণতা আর রমজানের প্রস্তুতির শ্রেষ্ঠ সময়। শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা সুন্নত যা নফসকে সংযত করে আর ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলে। প্রতিদিন ফরজ নামাজ সময়মতো আদায় করার পাশাপাশিঃ সুন্নত আর নফলের প্রতি যত্নবান থাকা অত্যন্ত বেশি মূল্যবান পাশাপাশিঃ কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত বৃদ্ধি করা আর বেশি বেশি ইস্তিগফার আর দোয়া করা উচিত। গোনাহ থেকে বিরত থাকা আর মানুষের হক আদায়ে সচেষ্ট থাকার সাথে অন্তর পরিপূর্ণ করার সাথে সাথে রমজানের জন্য মানসিক আর আত্মিক প্রস্তুতি গ্রহণ করার চেষ্টা করাই শাবান মাসের মূল শিক্ষা। সেই সব আমল রমজান মাসকে অনেক বেশি অর্থবহ আর ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করে।
শাবান মাস হলোঃ ইসলামের হিজরি ক্যালেন্ডারের অনন্য বিশেষ মূল্যবান মাস বা সময় যা রমজান মাসের প্রস্তুতি আর আত্মপরিপূর্ণতার সময় হিসেবে পরিচিত। শাবান মাসে বেশি বেশি করে নফল নামাজ, রোজা, দোয়া, দুরুদ, জিকির, ইস্তিগফার আর বেশি বেশি করে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা আর দান সদকা করা ইত্যাদি অন্যান্ন ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে বান্দা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে। হাদিসের মধ্যে রয়েছেঃ শাবান মাসে মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয় আর সেজন্যঃ শাবান মাসকে অবহেলা করা কিন্তু কোনোভাবেই উচিত নয় পাশাপাশিঃ আমাদেরকে সকল গোনাহ আর নেতিবাচক কাজ থেকে বিরত থাকা কিন্তু অত্যন্ত বেশি প্রয়োজন। যারা শাবান মাসের ফজিলত অনুযায়ী ইবাদত আর নেক আমল বৃদ্ধি করে থাকে। তারা রমজান মাসকে আরো অনেক বেশি অর্থবহ আর ফলপ্রসূ করতে পুরোপুরি কিন্তু সক্ষম হয় আর সেজন্যঃ শাবান মাসের প্রতিটি দিন আর সময়কে আমাদেরকে অত্যন্ত বেশি পরিমাণে মূল্য দিয়ে কাজে লাগানো উচিত।
