ডিজিটাল আর্থিক সেবা বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে বিশেষ করেঃ মোবাইল ফাইন্যান্স সেবা বিকাশের মাধ্যমে বর্তমানে ব্যাংক খোলা ছাড়াই দ্রুত লেনদেন আর টাকা পাঠানো বা নেওয়া সম্ভব। তারই অংশ হিসেবে বিকাশ লোন সিস্টেম বা বিকাশ লোন সার্ভিস জনপ্রিয় আর সহজ পদ্ধতি যা ব্যবহারকারীদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে অনেক বেশি সহায়ক। ছোট বা স্বল্পমেয়াদি লোনের জন্য বিকাশ অ্যাপ সরাসরি ডিজিটাল লোনের সুযোগ দেয় যা দ্রুত অনুমোদিত হয় আর টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে আসে। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবঃ
👉 বিকাশ লোন আসলে কী? ????
👉 বিকাশ লোন কি সবাই নিতে পারবে?
👉 কারা বিকাশ লোন নিতে পারবে? ???
👉 বিকাশ লোন নেওয়ার যোগ্যতা সমূহ
👉 বিকাশ লোন কিভাবে নিতে হবে? ???
👉 বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার নিয়ম সমূহ
👉 বিকাশ লোন হিসেবে কত টাকা পাওয়া যায়?
👉 বিকাশ লোন দেওয়ার সার্ভিস চার্জ সমূহ কত?
👉 বিকাশ লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানোর উপায়
সেই সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করবো আর সেটা নতুন ব্যবহারকারী বা যারা প্রথমবার লোন নিতে চাইছেন তাদের জন্য পুরোপুরি বিস্তারিত সঠিক গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।
আমাদের আরো কনটেন্ট সমূহ পড়তে পারেন
বিকাশ লোন আসলে কী? ????
বিকাশ থেকে সবাই কি লোন নিতে পারে? ????
বিকাশ লোন সিস্টেম বা বিকাশ লোন সার্ভিস হলোঃ বিকাশের ডিজিটাল মাইক্রো ঋণ সুবিধা। যেখানে যোগ্য গ্রাহকরা সরাসরি তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে স্বল্প অংকের টাকা ঋণ হিসেবে পেতে পারেন। মূলতঃ জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য স্বল্পমেয়াদি আর জামানতবিহীন ঋণ। তবেঃ বিকাশ থেকে সবাই লোন নিতে পারে না। কেবলমাত্র যেসব ব্যবহারকারীর বিকাশ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আর নিয়মিত লেনদেনের ইতিহাস আছে বা KYC সম্পন্ন করা আছে আর ভালো ব্যবহার স্কোর রয়েছে তাদেরকেই বিকাশ সিস্টেম থেকে লোন অফার দেখানো হয়। সহজ কথায় বললেঃ বিকাশ লোন পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে গ্রাহকের বিকাশ ব্যবহার করার বিষয় আর বিকাশে আর্থিক আচরণের উপর নির্ভর করে নির্ধারিত করা হয়।
কারা বিকাশ থেকে লোন নিতে পারবে? ???
বিকাশ লোন পাওয়ার যোগ্যতা কী লাগবে?
সব বিকাশ ব্যবহারকারী বিকাশ লোন পায় না
বিকাশ নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহককে লোন অফার করে
আর বিকাশ লোনের জন্য যোগ্যতা যেটা লাগবে
সেটা নিচে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হলোঃ
• সক্রিয় বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে
• নিয়মিত বিকাশে লেনদেন করতে হবে
• KYC সম্পন্ন থাকতে হবে
• বিকাশে পর্যাপ্ত লেনদেন ইতিহাস থাকতে হবে
• বিকাশে যদি পূর্বের লোন থাকে তাহলে কিন্তু
সময়মতো পরিশোধ করতে হবে বা থাকতে হবে
সহজ কথায় বললেঃ আপনার বিকাশ ব্যবহার
যত বেশি সক্রিয় থাকবে আপনার বিকাশের
লোন পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি কিন্তু থাকবে
বিকাশ থেকে লোন কিভাবে নিতে হবে? ????
বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার সঠিক নিয়ম সমূহ
আপনি যদি বিকাশ লোনের জন্য যোগ্যতা সম্পন্ন হন তাহলে আপনি বিকাশ অ্যাপ থেকেই কয়েকটি সহজ নিয়মে বিকাশ থেকে লোন নিতে পারবেন আর আমাদের আজকের কনটেন্টের নিচে বিকাশ লোন নেওয়ার নিয়ম বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হলোঃ
নিয়ম 🟠 বিকাশ অ্যাপের মধ্যে লগইন করুন
আপনার মোবাইলে বিকাশ অ্যাপ লগিন করুন
নিয়ম 🟠 মেনু থেকে লোন অপশনে চলে যান
নিয়ম 🟠 বিকাশের লোন অফার দেখে নিন
আর সেখানে আপনি দেখতে পাবেনঃ
• কত টাকা লোন পাবেন
• সার্ভিস চার্জ কত টাকা
• পরিশোধ করার সময়সীমা
সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন
নিয়ম 🟠 বিকাশ লোন নিশ্চিত করুন
Take Loan/Confirm বাটনে চাপ দিন
আর PIN দিয়ে সেটা অনুমোদন করুন
নিয়ম 🟠 টাকা ব্যালেন্সের পাওয়া
সফল হলে কয়েক সেকেন্ড বা কয়েক
মিনিটের মধ্যেই বিকাশ লোনের টাকা
আপনার বিকাশের ব্যালেন্সে যোগ হবে
মনে রাখবেন যে বিষয় ⚠️⚠️⚠️⚠️⚠️ যদি আপনার বিকাশে লোন নেওয়ার অপশন না দেখায় তাহলে আপনি বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার জন্য যোগ্য নন তবেঃ নিয়মিত যদি বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট লেনদেন করতে পারেন তাহলে ভবিষ্যতে বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার অফার আপনার কাছে আসতে পারে।
বিকাশ লোন হিসেবে কত টাকা নেওয়া যায়? ???
বিকাশ থেকে বর্তমানে ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল লোন পাওয়া যায়। সেই লোনটি মূলতঃ সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে বিকাশ অ্যাপের ভেতরেই দেওয়া হয়। আগে বিকাশ লোনের সীমা 20,000 থেকে 30,000 টাকা ছিল, কিন্তু গ্রাহকের চাহিদা আর ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে বিকাশ লোনের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে 50,000 টাকা করা হয়েছে।
• বিকাশ লোন লিমিট সবার জন্য সমান নয়
• বিকাশ ব্যবহারের ইতিহাস আর লেনদেনের
উপর ভিত্তি করে বিকাশের লোন নির্ধারিত হয়
• কেউ 2 থেকে 5 হাজার টাকা কেউ আবার
10 থেকে 20 হাজার আবার যোগ্য হলে 50
হাজার পর্যন্ত বিকাশের লোন পেতে পারেন
👉 বিকাশ লোনের মেয়াদ হচ্ছে ছয় মাস
সহজ কথায় বললেঃ আপনার বিকাশ অ্যাপে
যত লোন লিমিট দেখাবে বা দেখা যাবে আপনি
তত টাকা পর্যন্ত বিকাশ থেকে লোন নিতে পারবেন
আমাদের আরো কনটেন্ট সমূহ পড়তে পারেন
বিকাশ লোনের সুদের হার আর সার্ভিস চার্জ সমূহ
বিকাশ লোন আসলে ব্যাংক ( বিশেষ করে সিটি ব্যাংক ) থেকে দেওয়া ডিজিটাল ঋণ আর সেজন্যঃ বিকাশ লোনের সার্ভিস চার্জ নির্দিষ্ট নিয়মে নির্ধারিত থাকে আর সেটা নিচে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলোঃ
🟠 বিকাশ লোনের চার্জের হার সাধারণতঃ
সাধারণতঃ বছরে প্রায় 16% থেকে 18% পর্যন্ত
সুদ প্রযোজ্য আর সেটা কিন্তু গ্রাহকের ব্যবহার
আর ক্রেডিট স্কোর অনুযায়ী ভিন্ন হয়
• সার্ভিস চার্জ দৈনিক হিসাবে গণনা করা হয়
• আগে পরিশোধ করলে কম চার্জ দিতে হয়
🟠 বিকাশ লোনের প্রসেসিংয়ের ফি সাধারণতঃ
বিকাশ লোন নেওয়ার সময় মোট টাকার উপর
0.575% ( 0.5% + ভ্যাট ) কাটা হয়
উদাহরণঃ 10,000 টাকা লোনে 57.5 টাকা ফি
🟠 বিকাশ লোনের জরিমানা চার্জ সাধারণতঃ
নির্ধারিত সময়ে কিস্তি না দিলে অতিরিক্ত প্রায়
1.5% বার্ষিক পেনাল্টি ফি বা চার্জ লাগতে পারে
সহজ কথায় বললেঃ বিকাশের লোনে মূল চার্জ
হচ্ছে চার্জ আর প্রসেসিংয়ের ফি বা দেরি হলে
জরিমানা তবেঃ সময়মতো বা আগেই পরিশোধ
করলে বিকাশ লোনের চার্জ অনেকটা কম থাকে
আমাদের আরো কনটেন্ট সমূহ পড়তে পারেন
বিকাশ লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানোর উপায়
বিকাশ লোন মূলতঃ ব্যবহারকারীর লেনদেন আর আর্থিক আচরণের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। বিকাশ লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট নিয়মিত আর সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা জরুরি। যেমনঃ নিয়মিত ক্যাশ ইন আর ক্যাশ আউট করা আর মোবাইল রিচার্জ করা বা বিল পরিশোধ করা বা মার্চেন্ট পেমেন্ট আর অ্যাড মানি সেবা ব্যবহার করা। তাছাড়াঃ অ্যাপে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখা আর লেনদেনের নিয়মিততা বজায় রাখা জরুরি। যদি আগে কোনো বিকাশ লোন নিয়ে থাকেন তাহলে তা সময়মতো পরিশোধ করলে আপনার ক্রেডিট স্কোর উন্নত হয় আর ভবিষ্যতে বেশি অংকের লোন অফার পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সহজ কথায় বললেঃ যত বেশি ডিজিটাল লেনদেন আর দায়িত্বশীল ব্যবহার করবেন তত বেশি লোন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে দ্রুত আন সহজ আর্থিক সহায়তার জন্য বিকাশ লোন সার্ভিস কার্যকর সমাধান হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ব্যাংকের জটিলতা বা কাগজপত্র ছাড়াই মোবাইল অ্যাপ থেকেই স্বল্প অংকের ঋণ পাওয়া যায় যা জরুরি প্রয়োজন মেটাতে বেশ সহায়ক। তবেঃ মনে রাখতে হবেঃ বিকাশ লোন সার্ভিস সবার জন্য নয়; সেটা ব্যবহারকারীর বিকাশে লেনদেন করার ইতিহাস আর আর্থিক আচরণের উপর নির্ভর করে প্রদান করা হয়। সঠিকভাবে বিকাশ ব্যবহার করা আর নিয়মিত ডিজিটাল লেনদেন করা বা সময়মতো লোন পরিশোধ করা হলে ভবিষ্যতে বেশি অংকের লোন পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। সেজন্যও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে বিকাশ লোন ব্যবহার করা উচিত আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। দায়িত্বশীল ব্যবহারই আপনাকে বিকাশ লোন নেওয়ার সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে পারে।
