হাম >>>>> হাম রোগ অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত বা ছোঁয়াছে রোগ যা বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত বেশি সমস্যা জনিত রোগ আর সেটা খুব দ্রুত বাতাসের মাধ্যমে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো হাম রোগের প্রতিরোধ না করলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে টিকার মাধ্যমে হাম রোগের প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবেঃ সচেতনতার অভাবে অনেকেই হাম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সেজন্যঃ হাম রোগের প্রধান লক্ষণ আর হাম রোগ হওয়ার কারণ বা হাম রোগ ছড়ানোর উপায় সহ হাম রোগ হলে করণীয় সম্পর্কে সঠিকভাবে জেনে থাকা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা সহজভাবে সেই সব মূল্যবান বিষয় সমূহ উপস্থাপন করেছি। যাতে সবাই সচেতন হয়ে নিজেদেরকে আর পরিবারের সবার জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।
হাম রোগ কী আর হাম রোগ কেন হয়? ???????
হাম রোগ অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত বা ছোঁয়াছে রোগ যা মূলতঃ শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। সেটা শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবেঃ টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আর জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা ত্বকে লাল ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা যায়। হাম রোগ হওয়ার কারণ মূলতঃ Measles VIRUS নামক ভাইরাসের সংক্রমণে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে সেই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আর অন্যরা তা শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করলে হাম রোগে সংক্রমিত হয়। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আর টিকা না নেওয়া কিন্তু হাম রোগের ঝুঁকি অনেক বেশি বাড়ায়।
হাম রোগের লক্ষণ কী কী 🤔 🤔 🤔🤔🤔🤔
হাম রোগের প্রধান লক্ষণ সমূহ সব জেনে নিন
হাম রোগের লক্ষণ মূলতঃ সংক্রমণের 7 থেকে 14
দিনের মধ্যে দেখা যায়। হাম রোগের প্রধান লক্ষণঃ
🟠 জ্বরঃ
প্রথমে হালকা জ্বর হয় আর পরবর্তীতে
তা ১০৩–১০৫°F পর্যন্ত বাড়তে পারে
🟠 সর্দি আর কাশিঃ
নাক দিয়ে পানি পড়া আর শোকনো কাশি
বা তার সাথে সাথে গলা ব্যথা দেখা যায়
🟠 চোখ লাল হয়ে যায়ঃ
চোখ লাল হয়ে যায় আর আলোতে অস্বস্তি লাগে
🟠 মুখের ভেতরে সাদা দাগঃ
মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা
যায় যাকে Koplik SPOTS বলা হয়ে থাকে
🟠 শরীরে লাল ফুসকুড়িঃ
3 থেকে 5 দিনের মধ্যে শরীরে লাল দাগ বা
র্যাশ দেখা যায় যা মুখ থেকে শূরু হয়ে তারপর
পুরো শরীরের মধ্যে সেটা পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ে
তাছাড়াঃ দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, গলা ব্যথার মতো
সমস্যা বা রোগের দেখা দিতে পারে শরীরের মধ্যে
হাম রোগ কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে 🤔🤔🤔🤔🤔
হাম রোগ অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা মূলত বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পরে পুরো শরীরের মধ্যে। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন হাঁচি বা কাশি দেয় তখন Measles VIRUS বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে আর আশেপাশের মানুষজন তা তাের শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে সংক্রমিত হয়। তাছাড়াঃ আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা কিন্তু সেম জিনিস। যেমনঃ কাপড়, প্লেট, গ্লাস ইত্যাদি ইত্যাদি জিনিস ব্যবহার করা বা সরাসরি সংস্পর্শে সেই রোগ ছড়াতে পারে। ভাইরাসটি বাতাসে কিছু সময় যাবত ভাসমান থাকতে পারে। ফলেঃ সেটা খুব সহজেই অনেকের মধ্যে রোগের সংক্রমণ ঘটিয়ে দেয় বা দিতে পারে।
হাম রোগে কারা বেশি সমস্যায় পড়ে? ???????
হাম রোগে কিছু নির্দিষ্ট মানুষ বেশি ঝুঁকিতে থাকে আর তাদের ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বললেঃ ছোট বাচ্চারা যাদেরকে সম্পূর্ণ টিকা দেওয়া হয়নি তারা বেশি আক্রান্ত হয়। তাছাড়াঃ অপুষ্টিতে ভোগা বাচ্চারা আর দুর্বল বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি আর গর্ভবতী নারী বা বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে হাম রোগের ঝুঁকি বেশি। যারা MMR Vaccine গ্রহণ করেনি বা দেননি। তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। সেই সব ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিল সমস্যা বা রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
হাম রোগ হলে করণীয় কী কী? ??????????
হাম রোগ হলে করণীয় কাজ সমূহ জেনে নিন
হাম রোগ হলে সঠিক যত্ন আর সচেতনতা জরুরি
আর নিচের সব বিষয় মেনে চলা উচিত 👇👇👇
⭐ পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে
⭐ বেশি করে পানি আর তরল খাবার গ্রহণ করুন
⭐ জ্বর ব্যথায় ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিন
⭐ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন দেন ( পরামর্শে )
⭐ রোগীকে আলাদা করে রাখুন অন্যরা বাঁচতে
⭐ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাটা বজায় রাখুন
⭐ জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন
সঠিক সময়ে যত্ন নিলে হাম রোগ নিজে থেকেই
ভালো হয়ে যায়। তবেঃ সেটাকে অবহেলা করলে
কিন্তু সেটাতে খুব বেশি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
হাম রোগ অত্যন্ত সংক্রামক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য রোগ। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা হাম রোগের প্রধান লক্ষণ আর হাম রোগ হওয়ার কারণ বা হাম রোগ ছড়ানোর উপায় সহ হাম রোগ হলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছি। সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ করা আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বা আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে হাম রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে বললেঃ বাচ্চাদের হাম রোগ হলে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। সব শেষে বলা যায়ঃ সচেতনতা আর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে হাম রোগ মুক্ত সুস্থ শরীর আর সুস্থ দেশ আর সমাজ গড়ার প্রধান উপায়।
