টিন সার্টিফিকেট কিভাবে করতে হয় : অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আর্থিক, ব্যবসায়িক, সরকারি বিভিন্ন কাজের জন্য টিন ( e-TIN ) সার্টিফিকেট কিন্তু অনেক বেশি মূল্যবান ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আর্থিক, ব্যবসায়িক, সরকারি বিভিন্ন কাজের জন্য টিন ( e-TIN ) সার্টিফিকেট কিন্তু অনেক বেশি মূল্যবান ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। তবেঃ অনেকে জানেন না যে টিন সার্টিফিকেট আসলে কি আর টিন সার্টিফিকেট কেন প্রয়োজন বা অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট কিভাবে করতে হয়। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা ই-টিন সার্টিফিকেট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে সব কিছু আলোচনা করবো। পাশাপাশিঃ অনলাইনে ই-টিন রেজিষ্ট্রেশন করার নিয়ম আর ই-টিন রেজিষ্ট্রেশন করার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা অনলাইনে ই-টিন রেজিষ্ট্রেশন করার প্রয়োজনীয় তথ্য সহ আরো অন্যান্ন কিছু বিষয় নিয়ে কিন্তু খুব সহজ ভাষায় সব কিছু উপস্থাপন করবো।
টিন সার্টিফিকেট কি 🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔
Taxpayer Identification Number = TIN >>>>> টিন হচ্ছে করদাতা বা টেক্সদাতার জন্য নির্ধারিত ইউনিক নাম্বার বা সার্টিফিকেট। বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে 12 ডিজিট বা সংখ্যার অনলাইন টিন নাম্বার ( e-TIN ) নাম্বার বা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। সেই নাম্বার বা সার্টিফিকেটের মাধ্যমে কিন্তু বাংলাদেশের যেকোনো ব্যক্তি বা বাংলাদেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ( NBR ) করদাতা বা টেক্সদাতা হিসেবে কিন্তু তার শনাক্ত করে থাকে।
টিন সার্টিফিকেট কেন প্রয়োজন হয় অথবা হবে
টিন সার্টিফিকেট কিন্তু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের করদাতার পরিচয় নিশ্চিত করে। সেটা >>>>> ব্যাংক থেকে ঋণ করা, ব্যবসা নিবন্ধন করা, ট্রেড লাইসেন্স করা, কোম্পানি গঠন করা, জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয় আর বিক্রয় করা, ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করা সহ সরকারি আর বেসরকারি বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে। তাছাড়াঃ আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য টিন সার্টিফিকেটের নাম্বার কিন্তু বাধ্যতামূলক। সরকারের কাছে আর্থিক কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা আর কর সংক্রান্ত কাজ সহজ করার জন্য টিন সার্টিফিকেট কিন্তু মূল্যবান ভূমিকা পালন করে। সেজন্যঃ প্রয়োজন অনুযায়ী আগে থেকে টিন সার্টিফিকেট করে রাখা ভালো হবে।
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট করতে কি কি লাগে
টিন সার্টিফিকেটের নিবন্ধন করা ( e-TIN ) করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রয়োজন হয়। সাধারণতঃ জাতীয় পরিচয় পত্র ( NID ) অথবা ( জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট ) সচল মোবাইল নাম্বার, ইমেইল, বর্তমান আর স্থায়ী নিজের ঠিকানা আর নিজের পেশাগত তথ্য দিতে হয়। টিন সার্টিফিকেট রেজিষ্ট্রেশন করার আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ব্যবসা সংক্রান্ত কিছু অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। সেই সব তথ্য প্রস্তুত থাকলে অনলাইনে কয়েক মিনিটের মধ্যে টিন সার্টিফিকেট রেজিষ্ট্রেশন করার আবেদন করা যায়।
অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট করার নিয়ম জানুন
বর্তমানে ঘরে বসে অনেক বেশি সহজে কিন্তু আপনি
অনলাইনের মাধ্যমে টিন সার্টিফিকেট করতে পারেন
আর সেটা করার জন্য নিচের উপস্থাপনা দেখে নিন
👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇👇
🟠 NBR অয়েবসাইটের মধ্যে প্রবেশ করে নিন
প্রথমে আপনাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-TIN
সেবার অয়েবসাইটের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে
Link >>> secure.incometax.gov.bd
🟠 আপনার নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন
Signup অপশনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল
Number, Email, Password দিয়ে তৈরি করুন
🟠 তথ্য যাচাই করুন
আপনার মোবাইল নাম্বার আর ইমেইল OTP
কোড দিয়ে অ্যাকাউন্টের ভেরিফাই করে নিন
🟠 আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য দিতে হবে
আপনারঃ
➤ নাম
➤ NID নাম্বার
➤ জন্মতারিখ
➤ ঠিকানা
➤ পেশা
সঠিকভাবে কিন্তু সেটা পূরণ করুন
🟠 আপনার আবেদন জমা দিন
সব তথ্য যাচাই করে কিন্তু আবেদন জমা করে দিন
🟠 আপনার টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করুন
আবেদন সফল হলে সাথে সাথে আপনার 12 Digit
e-TIN নাম্বার তৈরি হয়ে যাবে আর তার পরে PDF
ফরম্যাটে টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে নিবেন
টিন সার্টিফিকেট করার সময় যে ভুল করবেন না
⚠️ ভুল NID নাম্বার কিন্তু কখনো দিবেন না সেখানে
⚠️ আপনার ভুল মোবাইল নাম্বার দিবেন না কখনো
⚠️ আপনার পেশাগত সব তথ্য কিন্তু ভুল দিবেন না
⚠️ কয়েকটি টিন সার্টিফিকেট তৈরির চেষ্টা না করা
⚠️ অন্যের কোনো তথ্য আপনি ব্যবহার করবেন না
সেই সব ভুল ভবিষ্যতে কিন্তু জটিলতার কারণ হবে
টিন সার্টিফিকেট করতে কি টাকা লাগতে পারে
টিন সার্টিফিকেট নিবন্ধন করার জন্য সরকারিভাবে কোনো ফি দিতে হয় না। আপনি যদি নিজে অনলাইনে টিন সার্টিফিকেটের আবেদন করেন। তাহলেঃ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে টিন সার্টিফিকেট করতে পারবেন। তবেঃ অনেকে কিন্তু সময় বাঁচাতে কম্পিউটারের দোকান বা অনলাইন সেবা প্রদানকারীর সাহায্য নেন। সেক্ষেত্রেঃ তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ সার্ভিস চার্জ নিতে পারে। সেই টিন সার্টিফিকেটের আবেদন করার চার্জ সরকারি নয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য নেওয়া হয়। সেজন্যঃ অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বাঁচতে চাইলে নিজে টিন সার্টিফিকেটের অনলাইন আবেদন করে বিনামূল্যে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করে নিতে পারেন।
টিন সার্টিফিকেট করার পর কি টেক্স দিতে হবে
টিন সার্টিফিকেট করার অর্থ সেটা নয় যে আপনাকে সাথে সাথে আয়কর বা ট্যাক্স দিতে হবে। ট্যাক্স দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে আপনার আয় আর প্রযোজ্য কর আইনের উপর। যদি আপনার বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকে। তাহলেঃ কোনো আয়কর দিতে হয় না। তবেঃ টিন সার্টিফিকেটের নাম্বার থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেজন্যঃ টিন সার্টিফিকেট নেওয়ার আগে ভয়ের কিছু নেই। মূলতঃ সেটা হচ্ছে করদাতা হিসেবে নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া। সব শেষে বলা যায়ঃ ট্যাক্স পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আপনার আয়ের পরিমাণ অনুযায়ী কিন্তু সবসময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।
টিন সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে কি করতে হবে
আপনার টিন সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয় হচ্ছে সাধারণতঃ নতুন করে টিন সার্টিফিকেট রেজিষ্ট্রেশন করার প্রয়োজন হয় না। কারণঃ আপনার e-TIN তথ্য কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন সিস্টেমে সুরক্ষিত করা থাকে। আপনি পূর্বে তৈরি করা অ্যাকাউন্টে লগইন করে পুনরায় নতুন করে টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন। যদি লগইন তথ্য ভুলে যান। তাহলেঃ ফরগেট Password অপশন ব্যবহার করে আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে পারেন। প্রয়োজনেঃ নিকটস্থ আয়কর অফিস বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহায়তা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে আপনার সকল তথ্য যাচাই করার মাধ্যমে আপনার টিন সার্টিফিকেট পুনরায় আনা সম্ভব। সেজন্যঃ টিন সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।
বর্তমান সময়ে টিন ( e-TIN ) সার্টিফিকেট হচ্ছে মূল্যবান পরিচয়পত্র। যেটা কিন্তু আর্থিক আর প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। অনলাইনের মাধ্যমে সহজে বিনামূল্যে টিন সার্টিফিকেট তৈরি করা যায় আর হারিয়ে গেলে পুনরায় নতুন করে টিন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা সম্ভব। টিন সার্টিফিকেট থাকলে যে আয়কর বা ট্যাক্স দিতে হবে যে তা কিন্তু নয়। সেটা আপনার আয়ের উপর নির্ভর করে। সেজন্যঃ সঠিক তথ্য দিয়ে টিন সার্টিফিকেটের নিবন্ধন করা আর প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য মূল্যবান। আমরা আশা করিঃ অনলাইনে টিন সার্টিফিকেট বানানোর নিয়ম আর টিন সার্টিফিকেট নিবন্ধনের আবেদন করার প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আপনি পেয়ে গেছেন।

Post a Comment