পবিত্র শবে বরাত হচ্ছে ইসলামী জীবনে অনন্য বিশেষ আর বরকতময় রাত। শবে বরাত শব্দের অর্থ হলোঃ “শব” অর্থ রাত আর “বরাত” অর্থ মুক্তি আর সেই রাত গোনাহ থেকে মুক্তি আর মহান আল্লাহর রহমত লাভ করার মূল্যবান সুযোগ। শাবান মাসের 14 তারিখ দিবাগত রাতে মুসলমানরা মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে আর দোয়া করে সাথে নফল ইবাদতে মশগোল থাকে তবেঃ পবিত্র শবে বরাত নিয়ে অনেকের মাঝে শবে বরাতের ইবাদতের সঠিক নিয়ম আর আমল সম্পর্কে বিভ্রান্তি রয়েছে আর সেজন্যঃ সহিহ আকিদা আর সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে ইবাদত করা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা জানবোঃ পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত কী কী রয়েছে আর পবিত্র শবে বরাতের ইবাদতের সঠিক নিয়ম বা পবিত্র শবে বরাতে কোন কেন কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত ইত্যাদি সেই সব বিষয় নিয়ে অনেক বেশি সহজ আর সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে আমরা সবাই পবিত্র শবে বরাতের রহমত, বরকত, মাগফিরাতময় রাতকে সুন্দরভাবে কাজে লাগাতে পারি।
আমাদের আরো কনটেন্ট পড়তে পারেন
পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত কেমন
পবিত্র শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আর মূল্যবান রাত। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ীঃ পবিত্র শবে বরাতের রাতে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ দয়া আর রহমতের দৃষ্টি দেন সাথে অসংখ্য অগণিত গোনাহগারদেরকে ক্ষমা করে দেন। যারা আন্তরিকভাবে তাওবা করে আর ক্ষমা প্রার্থনা করে। তাদের জন্য পবিত্র শবে বরাতের রাত মুক্তির সুযোগ হয়ে আসে। পবিত্র শবে বরাত মূলতঃ আত্মগঠন, আত্মসমালোচনা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শিক্ষা দেয়। পবিত্র শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি করে নফল নামাজ আদায় করা আর পবিত্র কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা বা দুরুদ, জিকির, দোয়ার মাধ্যমে ইমান মজবুত হয় আর অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। পবিত্র শবে বরাত মানুষকে গোনাহ থেকে ফিরে আসা আর সঠিক পথে চলার প্রেরণা জোগায় যা মুমিন মুসলমানদের জীবনে অনেক বেশি গভীর প্রভাব ফেলে।
আমাদের আরো কনটেন্ট পড়তে পারেন
শবে বরাতে ইবাদতের মূল্য কেন বেশি
শবে বরাত এমন একটি বরকতময় রাত। যেই রাতে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বিশেষভাবে রহমত নাজিল করেন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ীঃ পবিত্র শবে বরাতের রাতে মহান আল্লাহ অসংখ্য অগণিত মানুষের গোনাহ ক্ষমা করে দেন আর ক্ষমা প্রার্থনার দরজা উন্মুক্ত রাখেন আর সেজন্যঃ পবিত্র শবে বরাতের রাতে করা ইবাদতের মূল্য সাধারণ সময়ের তুলনায় কিন্তু বেশি গণ্য হয়। পবিত্র শবে বরাত মানুষকে আত্মগঠন করার সুযোগ দেয়। নিজের ভুলের জন্য তাওবা করা আর ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথে চলার অঙ্গীকার করা বা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। পবিত্র শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি করে নফল নামাজ আদায় করা আর পবিত্র কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা বা দুরুদ, জিকির, দোয়ার মাধ্যমে সকল মুমিন মুসলমান পবিত্র শবে বরাতের রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। পবিত্র শবে বরাতের রাতে অনেক বেশি আন্তরিকতার সাথে করা ইবাদতই পবিত্র শবে বরাতের প্রকৃত মূল্যকে বাড়িয়ে দেয়।
শবে বরাতের ইবাদত করার উত্তম নিয়ম
🟠 নফল নামাজ আদায় করা
শবে বরাতে নির্দিষ্ট কোনো নামাজ বা
নির্দিষ্ট রাকাআতের সংখ্যা কুরআন বা
সহিহ হাদিসে বর্ণিত নেই আর সেজন্যঃ
• দুই রাকাআত করে সাধারণভাবেই
নফল নামাজ পড়া সবচেয়ে বেশি উত্তম
• মনোযোগের সাথে নামাজ আদায় করা
• দীর্ঘ সময় যাবত সিজদায় দোয়া করা
সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি
🟠 কুরআন তিলাওয়াত করা
পবিত্র শবে বরাতের সবচেয়ে বেশি ফযিলতের
আমলের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত করা অন্যতম
• যতটুকু সম্ভব আস্তে আর অর্থ বোঝার চেষ্টা করে
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন
• সূরা ইয়াসিন, সূরা রহমান ইত্যাদি অন্যান্ন সূরা বা
ছোট ছোট সূরা বেশি বেশি করে পড়তে পারেন আর
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত শেষ করে দোয়া করা
🟠 বেশি বেশি করে দোয়া আর ইস্তিগফার
শবে বরাত মূলতঃ ক্ষমা চাওয়ার রাত
• বেশি বেশি করে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়া
• নিজের আর পরিবারের জন্য দোয়া করা
• মৃত আত্মীয়দের জন্য মাগফিরাত কামনা করা
হাদিস অনুযায়ী বলা যায়ঃ পবিত্র শবে বরাতের
রাতে আল্লাহ রাতে ক্ষমা করতে আগ্রহী থাকেন
🟠 জিকির আর দরুদ শরিফ পাঠ করা
পবিত্র শবে বরাতের রাতে আল্লাহর জিকিরে
মনোযোগ দেওয়া খুব বেশি মূল্যবান সেজন্যঃ
★ সুবহানাল্লাহ
★ আলহামদুলিল্লাহ
★ আল্লাহু আকবার
★ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
★ বেশি বেশি করে দরুদ শরিফ পাঠ করা
সেই সব আমল করলে অন্তর অনেক বেশি
প্রশান্ত হয় আর নেক আমল বৃদ্ধি পায়
🟠 দিনের বেলা রোজা রাখা ( ইচ্ছুক )
শাবান মাসে রাসুল ﷺ বেশি বেশি করে নফল
রোজা রাখতেন আর শবে বরাতের পরের দিন
15 শাবান তারিখে নফল রোজা রাখা যেতে পারে
সেটা কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়; সেটা সুন্নাহ আর নফল
আমাদের আরো কনটেন্ট পড়তে পারেন
শবে বরাতের পরের দিন রোজা রাখার বিধান
শবে বরাতের পরের দিন যথাক্রমেঃ 15 শাবান তারিখে রোজা রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে ফরজ বা অন্য কিছু নয়; সেটা হচ্ছে নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। রাসুল ﷺ শাবান মাসে অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখতেন। সেই কারণে অনেকেই 15 শাবান তারিখে রোজা রাখাকে মুস্তাহাব বলেছেন তবেঃ নির্দিষ্টভাবে 15 শাবান তারিখের দিনের রোজা রাখাকে বাধ্যতামূলক মনে করা সঠিক নয়। পবিত্র শবে বরাতের রাত ইবাদতে কাটানোর পর পরদিন রোজা রাখলে আত্মসংযম বৃদ্ধি পায় আর মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যাদের শারীরিকভাবে রোজা রাখার সামর্থ্য আছে কেবলমাত্র তারা নফল নিয়তে সেই রোজা রাখতে পারেন। মূল বিষয় হলোঃ ইবাদতে আন্তরিকতা আর সুন্নাহ সম্মত আমল অনুসরণ করা।
পবিত্র শবে বরাতে কী কী কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত জেনে বিস্তারিত
পবিত্র শবে বরাতের মূল উদ্দেশ্য হলোঃ ইবাদত, তাওবা, আত্মগঠন আর সেজন্যঃ পবিত্র শবে বরাতের রাতে কিছু কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত যেমনঃ পবিত্র শবে বরাতে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো আর হৈ হুল্লোড় বা অনর্থক আড্ডা দেওয়া ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করে যা অনুচিত। নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বিশেষ পদ্ধতির নামাজ আর দোয়া বাধ্যতামূলক মনে করা কিন্তু আসলর সঠিক নয়; কারণঃ তার স্পষ্ট কোনো সঠিক প্রমাণ নেই। কবর জিয়ারতের নামে অশোভন আচরণ করা আর লোক দেখানো ইবাদত করা বা বিদআতপূর্ণ আমল করা থেকে দূরে থাকতে হবে তাছাড়াঃ হিংসা, বিদ্বেষ, ঝগড়া, বিবাদ, অন্যের ক্ষতি করা ইত্যাদি খারাপ সব কাজের মন মানসিকতা পরিহার করা জরুরি। সব শেষে বলা যায়ঃ পবিত্র শবে বরাত হওয়া উচিত আত্মসংযম আর আল্লাহমুখী হওয়ার রাত।
সব শেষে বলা যায়ঃ পবিত্র শবে বরাত মুসলমানদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা আর গোনাহ থেকে মুক্তি বা আত্মগঠনের অনন্য মহামূল্যবান সুযোগ। পবিত্র শবে বরাতের রাতের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ইখলাসের সাথে করা ইবাদতে যেটা বেশি বেশি করে নফল নামাজ আদায় করা আর পবিত্র কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা বা দুরুদ, জিকির, দোয়া আর ইস্তিগফারের মাধ্যমে আর তার সঙ্গে বিদআত আর অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। পবিত্র শবে বরাত আমাদের অতীতের করা সকল ভুলের জন্য তাওবা করা আর আমাদরর ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার দৃঢ় সংকল্প নেওয়ার শিক্ষা দেয়। পবিত্র শবে বরাতে কেবলমাত্র ইবাদতের সংখ্যা নয়; পবিত্র শবে বরাতে ইবাদতে আন্তরিকতাটাই মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য আর সেজন্যঃ পবিত্র শবে বরাতের রহমত, বরকত, মাগফিরাতময় রাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আমল আর চরিত্রকে সুন্দর করার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানদের জন্য অন্যতম দায়িত্ব আর কর্তব্য।
