কুরআনুল কারিম আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক কিন্তু কুরআনুল কারিম বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার জন্য সঠিক তাজবীদ আর সঠিক উচ্চারণ জানা প্রয়োজন আছে আর দেখা যায় যে অনেক মুসলমান কুরআন পড়েন কিন্তু ভুলভাবে শব্দ উচ্চারণ করার কারণে সেই তিলাওয়াত কিন্তু সহীহ হয় না। সেই অসুবিধার মোকাবিলা করতে 1950 আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রঃ) হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট যেটা কেবলমাত্র কুরআনুল কারিম শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; সেটা মুসলিম সমাজে কুরআনুল কারিমের প্রতি ভালোবাসা, সচেতনতা, নৈতিকতা গড়ে তোলার অন্যতম কেন্দ্র। দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুরআনুল কারিমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত করার প্রসারে অবদান রেখে চলেছে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষা আর নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে মূল্যবান ভূমিকা রাখে।
দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের পরিচয়
দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট হচ্ছে বর্তমান সময়ের সুপ্রতিষ্ঠিত ইসলামী শিক্ষা আর দাওয়াহমূলক প্রতিষ্ঠান আর দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য পবিত্র কুরআনুল কারিমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত আর তাজবীদ শিক্ষার প্রসার করা। সিলেট বিভাগের জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী গ্রামে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের প্রথম সূচনা হয়। দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের ভিত্তি রেখেছেন জৌনপুরী সিলসিলার অন্যতম আলেম মুজাদ্দিদে জামান হজরত আল্লামা মোহাম্মদ আব্দুল লতীফ চৌধুরী ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (রঃ) তিনি 1950 সালে নিজ বাসায় সর্বপ্রথম বিষয়টি সূচনা করেন যেখানে তিনি পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সংগ্রহিত ছাত্র ছাত্রীদের কাছে কুরআনুল কারিমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শেখাতেন। শিক্ষার্থীর সংখ্যা যখন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে লাগলো আর নিজ বাড়ি থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে গেলো তখন তিনি ট্রাস্ট গঠন করেন আর যার নাম রাখা হয় দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট যা কার্যনির্বাহী বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তার পর থেকে দারুল ক্বিরাতের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশ সহ মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের অসংখ্য শাখা রয়েছে।
দারুল ক্বিরাতের মূল লক্ষ্য আর মূল উদ্দেশ্য
দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য হলোঃ পবিত্র কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের সময় তাযবীদ আর বিশুদ্ধ উচ্চারণ রীতি অনুযায়ী তিলাওয়াত শিক্ষা দেওয়া আর বিশুদ্ধ তিলাওয়াত প্রচার আর প্রসারের মাধ্যমে ঘরে ঘরে কুরআনের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট মূলতঃ রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত নিশ্চিত করতে কাজ করে যা কিয়ামত পর্যন্ত কুরআনুল কারিম হেফাযতের অন্যতম প্রচেষ্টা।
জেনে নিন দারুল ক্বিরাতের মূল উদ্দেশ্য সমূহ
🟠 কুরআনুল কারিমের শুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষাঃ
তাজবীদসহ সঠিক উচ্চারণের মাধ্যমে পবিত্র
কুরআনুল কারিম তিলাওয়াতের শিক্ষা দেওয়া
🟠 পবিত্র কুরআনুল কারিমের আমানত রক্ষাঃ
রাসূল (সাঃ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ক্বিরাত বা
তিলাওয়াত পদ্ধতি সংরক্ষণ আর তা পরবর্তী
সকল প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে হস্তান্তর করা
🟠 ইসলামি শিক্ষার্থী তৈরিঃ দক্ষ ক্বারী আর ক্বিরাত
বিশারদ তৈরি করা যাতে তারা সমাজে বিশুদ্ধভাবে
পবিত্র কুরআনুল কারিমের শিক্ষা দিতে পারেন
🟠 রমজান মাসে কুরআন শিক্ষাঃ প্রতি বছর
রমজান মাসে পবিত্র কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত
আর তাজবীদ শিক্ষার ব্যাপকভাবে আয়োজন করা
🟠 ঐতিহ্য রক্ষা করাঃ আহলে বাইত আর সালাফে
সালিহীনদের অনুসরণে বিশুদ্ধ কুরআনুল কারিম
তিলাওয়াত করার নিয়মকে বজায় সমাজে রাখা
শিক্ষা কার্যক্রম আর পরিচালনা পদ্ধতি
দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত আর তাজবীদ শিক্ষার অন্যতম সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান যা মূলত প্রতি বছর রমজান মাসে বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার শাখাকেন্দ্রে 6 বছরের দীর্ঘমেয়াদী কোর্স ( জামাতে আউয়াল হতে সাদিস পর্যন্ত ) পরিচালনা করে। দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের অধীনে দক্ষ ক্বারী আর শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শাখাকেন্দ্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়।
দারুল ক্বিরাতে কী কী বিষয়ে পড়ানো হয়? ????
দারুল ক্বিরাতের শিক্ষার বৈশিষ্ট্য আর কার্যক্রম
🟠 পাঠ্যক্রমঃ কুরআনুল কারীমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত,
তাজবীদের নিয়ম আর হরফ, মাখরাজ, ছগির, কবীর
আর সূরা মুখস্ত বা দোয়া ইত্যাদি ইত্যাদি সকল মৌলিক
বিষয় নিয়ে নিয়মাবলী শেখানো হয়
🟠 মেয়াদী কোর্স করাঃ দারুল ক্বিরাত হচ্ছে ছয় বছর
মেয়াদের কোর্স আর সেখানে শ্রেণী হিসেবে রয়েছেঃ
➤ জামাতে আউয়াল
➤ জামাতে সানি
➤ জামাতে ছালিছ
➤ জামাতে রাবে
➤ জামাতে খামিছ
➤ জামাতে ছাদিছ ( ফাইনাল )
সেই ছয়টি কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার পর
ফুলতলী ছাহেব বাড়িত গিয়ে ছাদিছ জামাতে
পড়ে পরিক্ষা দিয়ে পাশের পর দারুল ক্বিরাতের
শিক্ষার্থীরা ( ক্বারী ) হিসেবে সনদ পাবেন
🟠 শাখা কার্যক্রমঃ রমজান মাসে বিশেষ কোর্স
হিসেবে শত শত শাখাকেন্দ্রে সেটা পরিচালিত হয়
🟠 অনলাইন আর অফলাইন ভর্তিঃ নিয়মিত,
অনিয়মিত, পুরুষ আর মহিলা শিক্ষার্থীদের জন্য
আলাদা আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে যা অনলাইন
আর অফলাইন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে করা যায়
🟠 শিক্ষাদান পদ্ধতিঃ প্রশিক্ষিত ক্বারীগণের মাধ্যমে
প্রথাগত আর আধুনিক পদ্ধতির সমন্বয়ে পাঠদান হয়
দারুল ক্বিরাতের পরিচালনা করার পদ্ধতি
🟠 কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনাঃ দারুল কিরাত মজিদিয়া
ফুলতলী ট্রাস্ট কেন্দ্রীয় বোর্ড দ্বারা পরিচালিত যা
আল্লামা ফুলতলী (রহঃ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে
🟠 শাখা অনুমোদনঃ দারুল ক্বিরাতের কেন্দ্রীয়
শাখা কর্তৃক অনুমোদিত বিভিন্ন শাখাকেন্দ্রে সেই
কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে
🟠 পরীক্ষা আর সনদঃ প্রতিটি স্তরের শেষে পরীক্ষা
অনুষ্ঠিত হয় আর সব শেষে ( ক্বারী ) সনদ দেওয়া হয়
🟠 স্বেচ্ছাসেবীঃ দীর্ঘ পঁচাত্তর বছর যাবত কোনো
সরকারি অনুদান ছাড়াই সেটা পরিচালিত হয়ে আসছে
বিদেশে দারুল ক্বিরাতের অবদান আর অবস্থান
দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট বাংলাদেশ পেরিয়ে বিদেশের বিভিন্ন দেশে কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষায় মূল্যবান অবদান রেখে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের মধ্যে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের শাখা আর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেই সব শাখা কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদেশীরা সঠিক কিরাত আর তাজবীদ শেখার সুযোগ পাচ্ছে। বিদেশে দারুল ক্বিরাতের অবস্থান কেবলমাত্র শিক্ষা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়; সেটা সকল মুসলিম সমাজে ইসলামি পরিচয় আর পবিত্র কুরআনুল কারিমের প্রতি ভালোবাসা বা ইসলামী নৈতিকতা সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে যার ফলেঃ বিশ্বব্যাপী পবিত্র কুরআনুল কারিমের শিক্ষার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে।
বাংলাদেশে দারুল ক্বিরাতের অবদান আর অবস্থান
দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট বাংলাদেশে কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত আর তাজবীদ শিক্ষার বিস্তারে অন্যতম সুপরিচিত নাম। পবিত্র রমজানের পুরো মাস জুড়ে দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, অঞ্চলে দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের অসংখ্য শাখা কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআনুল কারিম শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে দারুল ক্বিরাতের অবস্থান কেবলমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সেটা কুরআনভিত্তিক দ্বীনি আন্দোলনের অংশ হিসেবে সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ, নৈতিকতা, পবিত্র কুরআনুল কারিমের প্রতি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে মূল্যবান ভূমিকা রেখে চলছে।
দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট কেবলমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়; সেটা কুরআনুল কারিমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত আর তাজবীদ শিক্ষার ক্ষেত্রে অন্যতম মূল্যবান মাধ্যম। দারুল ক্বিরাতের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ( রহঃ ) দূরদর্শী চিন্তা আর অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে সেটা আজকে দেশের পাশাপাশিঃ বিদেশের মাটিতে বিস্তৃত হয়ে বিশ্বের সকল মুসলিম সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। দারুল ক্বিরাতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবলমাত্র কুরআনুল কারিমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত আর তাজবিদ শেখে না; ইসলামী নৈতিকতা, সচেতনতা, কুরআনুল কারিমের প্রতি ভালোবাসা অর্জন করে। দারুল ক্বিরাতের অবদান বর্তমান সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ আর নৈতিক চরিত্র গঠনে অনন্যভাবে মূল্যবান আর সেজন্যঃ দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টকে কুরআনুল কারিম শিক্ষার অমূল্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
