রমজান মাস হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর জন্য অনন্য বিশেষ পবিত্র সময় 🌙🌙🌙🌙🌙 যখন রোজা, ইবাদত, দোয়া বিশেষ মূল্য পায় আর রমজানের মাসে রাতের নামাজ বিশেষ করেঃ ❝তারাবি❞ নামাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অনন্য সুযোগ। তারাবি কেবলমাত্র সুন্নত নামাজ নয়; সেটা মুসলিমদের আত্মিক প্রশান্তি আর ইমানের শক্তি বা আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ প্রশস্ত করে। নবী মুহাম্মদ ﷺ তারাবির নামাজ নিয়মিত আদায় করতেন আর সকল মুসলমানদের জন্য তারাবির নামাজকে সুন্নাহ হিসেবে রেখে গিয়েছেন। নামাজের সঙ্গে দোয়া পড়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে আরো অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হতে পারি। গোনাহ থেকে ক্ষমা লাভ করতে পারি আর জীবনে বরকত বৃদ্ধি করতে পারি ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা জানবোঃ
👉 তারাবির নামাজ আসলে কী?
👉 তারাবির নামাজের দোয়া কতটি?
👉 তারাবির নামাজে কোন দোয়া পড়তে হয়?
তার সাথে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করা হয়েছে
👉 তারাবির নামাজের দোয়ার ফযিলত কেমন?
যাতে প্রতিটি মুসলমান পবিত্র মাহে রমজানের
প্রতিটি রাতকে অনেক বেশি অর্থপূর্ণ করতে পারে
তারাবির নামাজ কি? ????
তারাবির নামাজ হলোঃ পবিত্র মাহে রমজান মাসে সালাতুল ইশার নামাজের পর আদায় করা বিশেষ সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজ। তারাবির নামাজ মূলতঃ রাতের নফল ইবাদত কিয়ামুল লাইলের অংশ যা রমজানের কারণে বিশেষভাবে মূল্য পেয়েছে। নবী মুহাম্মদ ﷺ কয়েক রাত জামাতের সাথে তারাবির নামাজ আদায় করেছিলেন আর পরে উম্মতের উপর ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নিয়মিত জামাত চালু করেননি। পরে খলিফা হযরত উমর (রাঃ) মুসলমানদেরকে জামাতে তারাবি পড়ার ব্যবস্থা করে দেন। সাধারণতঃ 20 রাকাত তারাবি পড়া হয় তবেঃ কেউ কেউ ( 8 ) আট রাকাত পড়েন আর তাতে দীর্ঘ সময় যাবত কিরাত আর পবিত্র কুরআনের তিলাওয়াত বা মহান আল্লাহর স্মরণ করা হয়। পুরো রমজান মাসের রাতে ইশার নামাজের পর আর সেহরি খাওয়ার আগে ঈমান আর সওয়াবের আশায় তারাবি আদায় করলে গোনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ হাদিসে রয়েছে।
তারাবির নামাজে কোন দোয়া পড়তে হয়?
তারাবির নামাজের মোনাজাতের দোয়া
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন 🤔🤔🤔🤔🤔 তারাবির নামাজের দোয়া কতটি 🤔🤔🤔🤔🤔 তারাবির নামাজের দোয়া মূলতঃ দুইটি ( 2 ) তারাবির নামাজের প্রথম দোয়া মানে তারাবির নামাজের চার রাকাত পরপর পড়ার দোয়া ( সুবহানাযিল মুলকি..... ) দোয়াটি মূলতঃ জিকির, তাসবিহ, দোয়ার সংমিশ্রণ যা সাধারণত দোয়া বা মোনাজাত হিসেবে পরিচিত। সেটা কোনো ফরজ ও ওয়াজিব দোয়া নয়; সেটা হচ্ছে ইচ্ছাকৃত তাসবিহ তাহলিল বা দোয়ার মাধ্যমে তারাবির নামাজে বিশ্রাম নেওয়ার মাধ্যম। তারাবির নামাজের দ্বিতীয় দোয়া যেটা রয়েছে সেটা হচ্ছে পুরো 20 রাকাত তারাবির নামাজ শেষে সবাই হাত তুলে দোয়া যে দোয়াটি করা হয় ( আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাহ..... ) সেটা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য ⚠️⚠️⚠️⚠️⚠️ আপনি যদি আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের কনটেন্টে উপস্থাপিত তারাবির নামাজের দোয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ভালোভাবে জানতে বা বুঝতে না পারেন তাহলে আপনি কোনো আলেমের দ্বারা বা অনলাইনে ইসলামিক কনটেন্টের নির্ভরযোগ্য সোর্স দ্বারা বিষয়টি ভালো করে বুঝে নিয়েন ⚠️⚠️⚠️⚠️⚠️
তারাবির নামাজে প্রতি চার রাকাত পর পর বিরতির সময় প্রচলিত বিশেষ দোয়াটি হলোঃ
سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ - سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ - وَالْعَظَمَةِ - وَالْهَيْبَةِ - وَالْقُدْرَةِ - وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَّرُوتِ - سُبْحانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي - لَا يَنَامُ - وَلَا يَمُوتُ - اَبَدًا اَبَدًا - سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ - رَبُّنَا وَرَبُّ - الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ
সুবহানাযিল মুলকি দোয়ার বাংলা উচ্চারণ হলোঃ
সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকূতি; সুবহানা যিল ইয্যাতি; ওয়াল আযমতি; ওয়াল হাইবাতি; ওয়াল কুদরাতি; ওয়াল কিবরিয়াই; ওয়াল জাবারূত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাযী; লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামূতু; আবাদান আবাদা; সুব্বূহুন কুদ্দুছুন; রাব্বুনা ওয়া রাব্বুন; মালাইকাতি ওয়ার রূহ;
সুবহানাযিল মুলকি দোয়ার অর্থ হলোঃ পবিত্র সেই মহান আল্লাহ যিনি ইহকাল আর পরকালের মালিক। পবিত্র সেই মহান সত্তা যিনি ইজ্জত ( সম্মান ) আজমত ( মহত্ত্ব ) হায়বাত ( ভীতি ) কুদরত ( ক্ষমতা ) কিবরিয়া ( গৌরব ) আর জাবারুত ( প্রভাব )-এর মালিক। পবিত্র সেই মহান আল্লাহ যিনি চিরঞ্জীব কখনো ঘুমান না আর যার কখনো মৃত্যু নেই। তিনি অত্যন্ত পবিত্র আর মহিমান্বিত। তিনি আমাদের প্রতিপালক আর ফেরেশতা আর রূহের প্রতিপালক।
তারাবির নামাজের শেষের দোয়া হলোঃ
اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ - يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَا عَزِيْزُ يَا غَفَّارُ - يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ - يَا رَحِيْمُ يَا جَبَّارُ - يَا خَالِقُ يَا بَارُّ - اَللّٰهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ - يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ - بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ দোয়ার বাংলা উচ্চারণ হলোঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বাররু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন;
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ দোয়ার অর্থ হলোঃ হে আল্লাহ; নিশ্চয়ই আমরা আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি আর জাহান্নামের আগুন থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। হে জান্নাত আর জাহান্নামের মালিক; আপনার রহমতের উসিলায় ( আমাদের কবুল করুন ) হে মহাপরাক্রমশালী; হে ক্ষমাশীল; হে দয়াবান; হে দোষ গোপনকারী; হে পরম দয়ালু; হে প্রবল প্রতাপশালী; হে সৃষ্টিকর্তা; হে পুণ্যবান; হে আল্লাহ; আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। হে আশ্রয়দাতা; হে আশ্রয়দাতা; হে আশ্রয়দাতা; আপনার করুণার উসিলায়; হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু;
তারাবির নামাজের দোয়ার ফজিলত
তারাবির নামাজে প্রতি চার রাকাত পরপর আর শেষে যে দোয়ার আমল করা হয় তা মূলতঃ তাসবিহ তাহলিল আর দোয়া উভয়ের সংমিশ্রণ। নির্দিষ্ট করে বললেঃ মাঝের আমলটি ( সুবহানাযিল মুলকি..... ) দোয়াটি হচ্ছে তাসবিহ বা জিকির আর শেষের দোয়া বা মোনাজাতটি হচ্ছে ( আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাহ..... )
দোয়া। সেই দুইটি দোয়া হচ্ছে মূলতঃ মহান আল্লাহর প্রশংসা আর গোনাহ মাফের আকুতি বা মিনতির মাধ্যম।
তারাবির নামাজের বিরতির দোয়া আর তারাবির
নামাজের শেষের দোয়ার বিশেষ ফজিলত সমূহ
নিচে বিস্তারিত সহকারে উপস্থাপন করা হলোঃ
তাসবিহে তারাবি বা তারাবির নামাজের
চার রাকাত পর পর যে দোয়া পড়া হয়
( সুবহানাযিল মুলকি..... )
সেই দোয়ার ফযিলত হচ্ছেঃ
🟠 মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতিঃ সেই
দোয়ার প্রথমেই ( سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ )
বলা হয় যার অর্থ হচ্ছে ❝পবিত্র সেই মহান সত্তা
যিনি দৃশ্য আর অদৃশ্য জগতের মালিক❞ আর
সেই দোয়া পাঠ করার মাধ্যমে মুমিন মুসলমান
ব্যক্তি স্বীকার করে যে পৃথিবীর সকল ক্ষমতা
আর রাজত্ব মহান আল্লাহর
🟠 বিস্ময় আর ভীতি মিশ্রিত শ্রদ্ধাঃ দোয়ার
অংশে আল্লাহর
• আজমত ( মহিমা )
• হায়বাত ( গাম্ভীর্য )
• কুদরত ( ক্ষমতা )
ইত্যাদি উল্লেখ রয়েছে যেটা মূলতঃ
দীর্ঘ ইবাদতের ক্লান্তি ভুলে আল্লাহর সেই অসীম
শক্তির কথা স্মরণ করলে হৃদয়ে ভক্তি জন্মায়
🟠 মৃত্যুহীন সত্তার গোনগানঃ তিনি এমন একজন
চিরঞ্জীব যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না সেই
স্বীকৃতির দ্বারা মনে আখেরাতের চিন্তা জাগ্রত হয়
🟠 বিশ্রাম করার সার্থকতাঃ ❝তারাবি❞ শব্দের
অর্থই হচ্ছে ❝বিশ্রাম❞ সারা দিন যাবত রোজা
রাখার পরে বা দীর্ঘ সময় যাবত তারবির নামাজে
দাঁড়িয়ে থাকার পর সেই দোয়া, জিকির, তাসবিহ
পাঠ করলে শরীর আর মন উভয়ের মধ্যে কিন্তু
আধ্যাত্মিক প্রশান্তি আর শক্তি সঞ্চার হয়
তারবির নামাজের শেষের দোয়ার ফযিলত
নিচে বিস্তারিত সহকারে উপস্থাপন করা হলোঃ
তারাবির নামাজ শেষে যে দোয়া পড়া হয়
( আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাহ..... )
সেই দোয়ার ফযিলত হচ্ছেঃ
🟠 اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ
হে আল্লাহ ; আমরা আপনার কাছে জান্নাত
চাই আর জাহান্নাম থেকে আমরা আশ্রয় চাই
🟠 সবচেয়ে বড় চাওয়াঃ মুমিনের জীবনের
মূল লক্ষ্য হলোঃ জান্নাত পাওয়া আর জাহান্নাম
থেকে মুক্তি পাওয়া। হাদিস অনুযায়ী বলা হয়
যে যখন কোনো বান্দা তিনবার জান্নাতের জন্য
প্রার্থনা করে তখন জান্নাত নিজে বলে যে হে
আল্লাহ ; তাকে জান্নাতের মধ্যে প্রবেশ করান
🟠 রমজানের বিশেষ সময়ঃ রমজান মাস
হলোঃ ক্ষমা আর মুক্তির মাস আর সেই মাসে
ইবাদত বন্দেগিতে মগ্ন অবস্থায় করা দোয়া
কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
🟠 মহান আল্লাহর নামের উসিলাঃ সেই
দোয়ার অংশে আল্লাহর
• গাফফার ( ক্ষমাশীল )
• করিম ( দয়ালু )
• সাত্তার ( দোষ গোপনকারী নামে ডাকা হয় )
মহান আল্লাহর সেই সব সুন্দর মহান নামের
উসিলা দিয়ে দোয়া করা কিন্তু হচ্ছে দোয়া
মহান আল্লাহর কাছে কবুলের অন্যতম শর্ত
🟠 ব্যক্তিগত আর সামষ্টিক কল্যাণঃ ইমাম
যখন সেই দোয়াটি পড়েন তখন পুরো জামাত
মিলে ❝আমীন❞ বলে আর সম্মিলিত সেই
আকুতি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় আর
সেটা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অনেক বেশি দৃঢ় করে
>>>>> তারাবির নামাজের সময়ে জিকির
আর দোয়া করলে তা সরাসরি পূর্ববর্তী
গোনাহের কাফফারা হিসেবে কাজ করে
তারাবির নামাজ হলোঃ পবিত্র মাহে রমজান মাসের রাতে মুসলিমদের জন্য অনন্য বিশেষ ইবাদত যা কিয়ামুল লাইলের অংশ হিসেবে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ দেয়। তারাবির নামাজের চার রাকাত পর পর দোয়া পড়া বা তারাবির নামাজের শেষে পড়া সুন্নাহসম্মত দোয়া আমাদের আত্মা পরিপূর্ণ করে আর ইমানকে শক্তিশালী করে পাশাপাশিঃ গোনাহ থেকে ক্ষমার রাস্তা খুলে দেয়। রাতের নামাজ আর দোয়ার মাধ্যমে মনের শান্তি আর মানসিক প্রশান্তি বা আধ্যাত্মিক বৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। তারাবির নামাজ আর দোয়া নিয়মিত আদায় করলে মহান আল্লাহর রহমত আর বরকত জীবনে প্রবাহিত হয় আর সেজন্যঃ রমজানের প্রতিটি রাতকে অর্থপূর্ণ করতে তারাবি নামাজ পড়া আর অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করা উচিত। সেটা কেবলমাত্র রোজা পালনকে সমৃদ্ধ করে না; সেটা আমাদের নৈতিক আর আত্মিক উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মুসলিমদের জন্য তারাবির নামাজ হচ্ছে অনন্য সুযোগ যা জীবনের জন্য চিরস্থায়ী বরকত আর শান্তি নিয়ে আসে।
