শবে কদরের নামাজে কোন কোন সূরা আর দোয়া পড়তে হয় জেনে নিন

Muslim Man Performing Sujud ( prostration ) during praying salah inside a beautifully lit mosque and wearing white prayer attire and cap with Quran stand and lanterns IN The Background


পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত, ক্ষমার মাস আর সেই পবিত্র মাসের শেষ দশকের সবচেয়ে মূল্যবান রাত হলোঃ পবিত্র শবে কদর বা পবিত্র লাইলাতুল কদর। ইসলামে পবিত্র শবে কদরের রাতের মর্যাদা অত্যন্ত বেশি। কারণঃ পবিত্র শবে কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেজন্যঃ পবিত্র শবে কদরের রাতে মুসলমানরা বেশি বেশি করে নফল নামাজ পড়া আর কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা বা দোয়া করে থাকেন। অনেকেই জানতে চানঃ পবিত্র শবে কদরের নামাজ কত রাকাত আর পবিত্র শবে কদরের নামাজে কোন সূরা পড়তে হয় বা পবিত্র শবে কদরের দোয়া কখন দোয়া করা উত্তম।

রিলেটেড আরো কনটেন্ট সমূহ পড়তে পারেন






শবে কদরের নামাজ কত রাকাত করে পড়তে হয়

শবে কদরের নামাজের জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট কোনো নির্ধারিত রাকাতের নামাজ নেই। শবে কদরের রাতের মূল উদ্দেশ্য হলোঃ বেশি বেশি করে নফল ইবাদত করা। সাধারণতঃ মুসলমানরা দুই ( 2 ) রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করেন আর নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যত ইচ্ছা তত রাকাত পড়তে পারেন। অনেকেই শবে কদরের রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আর নফল নামাজ আর বিতর নামাজ আদায় করে থাকেন। তাছাড়াঃ নামাজের সাথে সাথে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা আর দুরুদ, জিকির, তাসবিহ, দোয়া আর তাওবা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সেজন্যঃ শবে কদরের রাতে নির্দিষ্ট রাকাতের বাধ্যবাধকতা নেই; আন্তরিকতার সাথে বেশি বেশি ইবাদত করাই সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়।

রিলেটেড আরো কনটেন্ট সমূহ পড়তে পারেন




শবে কদরের নামাজে কোন সুরা পড়তে হয়

শবে কদরের নামাজ পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো
সূরা বাধ্যতামূলক নয়। তবেঃ কিছু সূরা পড়া
বেশি ফজিলতপূর্ণ বলে আলেমরা বলেছেনঃ

👉 প্রথমে সূরা ফাতিহা
প্রত্যেক রাকাতের প্রথমে সূরা ফাতিহা পড়তে হয়

🟠 সূরা আল কদর
সূরাটি শবে কদরের মূল্য সম্পর্কে বর্ণনা করে থাকে

🟠 সূরা আল ইখলাস
অনেকেই নফল নামাজে সূরা ইখলাস বেশি পড়েন

🟠 সূরা আল ফালাক
সূরাটি আল্লাহর কাছে আশ্রয়ের জন্য পড়া হয়

🟠 সূরা আন নাস
শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচতে সূরাটি পড়া হয়

অনেকে দুই রাকাত নামাজে পড়েন থাকেন যেঃ
১ম রাকাতঃ সূরা ফাতিহা + সূরা কদর
২য় রাকাতঃ সূরা ফাতিহা + সূরা ইখলাস



শবে কদরের নামাজের দোয়া কোনটি? ????

শবে কদরের নামাজে কোন দোয়া পড়তে হয়

শবে কদরের রাতে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা অত্যন্ত বেশি মূল্যবান বিষয়। শবে কদরের রাতে বিশেষভাবে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। কারণঃ শবে কদরের রাতের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ইসলামে শবে কদরের জন্য বিশেষ দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে। যেই দোয়া পড়া খুবই ফজিলতপূর্ণ।

শবে কদরের বিশেষ দোয়াটি হলোঃ
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন
তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি

অর্থঃ হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল
আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন
অতএবঃ আমাকে ক্ষমা করে দিন

তাছাড়াঃ শবে কদরের রাতে নিজের গোনাহ মাফ
করার জন্য আর মা, বাবা, ভাই, বোন, আত্মীয়স্বজন বা পাড়াপ্রতিবেশি ইত্যাদি সকলের জন্য আর রিজিক বৃদ্ধির জন্য বা মনের আশা পূরণের জন্য বা দুনিয়া আর আখিরাতের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা খুবই উত্তম।



শবে কদরের নামাজের দোয়া কখন করতে হয়

শবে কদরের রাতে দোয়া করার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই; পুরো রাতই দোয়া করার জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবেঃ নামাজের মধ্যে আর নামাজ শেষ করার পর দোয়া করা সবচেয়ে উত্তম। বিশেষ করে বলা যায়ঃ নফল নামাজ পড়ার পর বা তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার পর আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা খুবই মূল্যবান। তাছাড়াঃ সিজদার অবস্থায় দোয়া করা যায়। কারণঃ সিজদা অবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে। সেজন্যঃ শবে কদরের রাতে নামাজের পর, সিজদায়, রাতের শেষ অংশে বেশি বেশি দোয়া করা সবচেয়ে উত্তম আর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমল।





পবিত্র শবে কদরের রাত বা পবিত্র লাইলাতুল কদরের রাত হচ্ছে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত বরকতময় আর মূল্যবান রাত। শবে কদরের রাতে মহান আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত আর ক্ষমা বর্ষণ করেন। সেজন্যঃ প্রত্যেক মুসলমানের উচিত শবে কদরের রাতকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে বেশি বেশি করে নফল নামাজ পড়া আর কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা বা আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা। শবে কদরের নামাজে নির্দিষ্ট কোনো সূরা বা রাকাত বাধ্যতামূলক নয়; তবেঃ কদর, ইখলাস, ফালাক, নাস সূরা বেশি পড়া উত্তম। আন্তরিকতা সাথে ইবাদত করলে মহান আল্লাহ বান্দার গোনাহ মাফ করে দেন আর অশেষ সাওয়াব দান করেন। সেজন্যঃ শবে কদরের মহিমান্বিত রাতকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

Post a Comment

Previous Blog Post Next Blog Post