ব্যবসার জন্য লোন কিভাবে নিতে হয় : বিস্তারিত তথ্য জানুন

নতুন ব্যবসা করা অথবা চলমান ব্যবসাকে আরো বড় করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বা টাকার প্রয়োজন হয়ে থাকে। নিজের Savings দিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ বা টাকা
Loans Text Writing → representing → Loan Application Process And Loan Related Guidelines


নতুন ব্যবসা করা অথবা চলমান ব্যবসাকে আরো বড় করার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বা টাকার প্রয়োজন হয়ে থাকে। নিজের Savings দিয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ বা টাকা জোগাড় করা সম্ভব না হলে Bank or Loan প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার জন্য লোন আনা বা বিজনেস লোন আনা কিন্তু বিকল্প উপায় হতে পারে। তবে, ব্যবসার জন্য লোন নিতে হলে আগে জানতে হবে যে বিজনেস লোন কোথা থেকে আনব → বিজনেস লোন আনতে কোন কাগজপত্র প্রয়োজন হবে → যোগ্যতা কি লাগবে → বিজনেস লোনের আবেদন করার নিয়ম কি ইত্যাদি। আজকে, বিজনেস লোন আনার উপায় আর বিজনেস লোন আনার নিয়ম নিয়ে পুরোপুরি বিস্তারিতভাবে জানব।




ব্যবসার জন্য লোন কেন প্রয়োজন হয় তা জানুন

SME Loan বলতে, নতুন ব্যবসা করা, নতুন Products কেনা, দোকান বা ব্যবসা আরো বড় করা, ব্যবসার Machinery কেনা বা ব্যবসার অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য Bank or Loan প্রতিষ্ঠান থেকে যেই টাকা আনা হয়ে থাকে। সাধারণভাবে, সেটাকে কিন্তু ব্যবসায়িক বা বিজনেস Loan ( SME Loan ) বলা হয়ে থাকে। SME লোন আনার যোগ্য তারা। যাদের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কেবলমাত্র, তারা সেই লোন আনতে পারবেন। তবে, ব্যবসা করার লোন আনার জন্য সেই লোনের বিষয় আর লোনের পরিমাণ অনুযায়ী সুদ, মেয়াদ, কিস্তি বা প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে।

ব্যবসার জন্য লোন কিভাবে আনতে পারব

ব্যবসার জন্য লোন আনার ক্ষেত্রে সাধারণত
কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করতে হবে। যেমন,

🟠 ব্যবসায়িক লোনের প্রয়োজন কি দেখুন

প্রথমে ঠিক করুন যে আপনার ব্যবসায় কত
টাকা প্রয়োজন রয়েছে বা সেই টাকা কোথায়
ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়

উদাহরণ হিসেবে বললে

• ব্যবসা বড় করা
• নতুন প্রোডাক্ট কেনা
• দোকান বা ব্যবসা বড় করা
• ব্যবসার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা
• ব্যবসার দৈনন্দিন খরচ পরিচালনা করা
• নিজের ব্যবসার নতুন কোনো শাখা চালু করা

প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লোন আনা উচিত
নয়। কারণ, আপনার লোনের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের
মধ্যে কিস্তিসহকারে সেটা পরিশোধ করে দিতে হয়

🟠 ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করুন

ব্যবসার জন্য ব্যাংক বা বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান
থেকে লোন আনার সুযোগ রয়েছে অথবা যাবে।
প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার সময় কেবলমাত্র কত
টাকা লোন দিবে সেটা দেখে নিবেন না। দেখুন,

• সুদের হার কত
• লোনের মেয়াদ কত
• মাসিক কিস্তি কত হবে
• Processing ফি আছে কি বা না
• জামানত প্রয়োজন আছে কি বা না
• আগাম পরিশোধের নিয়ম কি রয়েছে
• অন্যান্য চার্জ কত বা আছে কি বা না

আপনার ব্যবসার আয় বা পরিশোধ করার ক্ষমতার
সাথে মিল থাকা লোন নির্বাচন করা সবচেয়ে ভালো

ব্যবসার লোন পেতে কি কাগজপত্র লাগতে পারে

ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানভেদে প্রয়োজনীয় সকল
কাগজপত্র আলাদা হতে পারে। তবে, সাধারণভাবে
নিচে উপস্থাপন করা সেসব প্রয়োজন হতে পারে,

📍জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
📍ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স
📍Bank তথ্য
📍ব্যবসার হিসাবের তথ্য
📍ব্যবসার ঠিকানার তথ্য
📍Tax কাগজপত্র ( প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লাগবে )
📍ব্যবসার মালিকানার ডকুমেন্টস
📍তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য ডকুমেন্টস

আবার, কিছু ক্ষেত্রে জামানত, গ্যারান্টর, অতিরিক্ত
কোনো কাগজপত্র সেখানে প্রয়োজন লাগতে পারে

নিজের নতুন ব্যবসার জন্য কি লোন আনা যাবে

নতুন ব্যবসার ঋণ আনা তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে। কারণ, Bank তাদের কাছে ঋণ আবেদনকারীর ব্যবসার আয়, লেনদেন, ঋণ Repayment সক্ষমতা বিবেচনা করে থাকে। তবে, নতুন কোনো উদ্যোক্তা অথবা ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ঋণ ( Small Business Loan ) ব্যবস্থা চালু করা আছে। আপনি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যদি হোন। তাহলে, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ আনার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সেজন্য, নতুন ব্যবসা করার আগে কিন্তু আপনার পরিচিত কোনো Bank or Loan প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক লোনের যোগ্যতা আর শর্ত ভালো করে জেনে ঋণের আবেদন করা উচিত হবে।

ব্যবসার জন্য লোনের আবেদন করার নিয়ম কি

সাধারণভাবে, ব্যবসায়িক লোনের আবেদন প্রক্রিয়া
তেমন হতে পারে

1 ) প্রয়োজনীয় লোনের পরিমাণ সিলেক্ট করুন
2 ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোন তুলনা করে দেখুন
3 ) যোগ্যতার সাথে মিলিত লোন সিলেক্ট করুন
4 ) লোনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
5 ) অনুমোদিত সিস্টেমে লোনের আবেদন করুন
6 ) তারা আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করবে
7 ) আপনার আবেদন অনুমোদন করা হয়ে গেলে
তাদের নিয়ম অনুযায়ী লোনের টাকা হাতে পাবেন

তবে, সব লোন প্রতিষ্ঠানের আবেদন বা অনুমোদন
প্রক্রিয়া যেটা রয়েছে তা কিন্তু সেম টু সেম বিষয় নয়

ব্যবসার জন্য কত টাকা লোন আনা যাবে জানুন

ব্যবসায়িক লোনের পরিমাণ নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নয়।
সেটা কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন,

➤ Business বিষয়
➤ Business বয়স
➤ Monthly আয়
➤ Bank লেনদেন
➤ ব্যবসার আর্থিক অবস্থা
➤ আবেদনকারীর Credit ইতিহাস
➤ জামানত অথবা গ্যারান্টি
➤ প্রতিষ্ঠানের লোন সিস্টেম

সেজন্য, আবেদন করার আগে Bank or Loan
প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বশেষ লোন সীমা কত
আর যোগ্যতা কি লাগবে তা জানাটা ভালো হবে


লোন আনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখুন

ব্যবসার জন্য লোন আনার আগে কয়েকটি বিষয়
অবশ্যই বিবেচনা করা দরকার

🟠 লোনের মাসিক কিস্তি হিসাব করে দেখবেন

লোন আনার আগে সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি কত হতে
পারে। সেটা হিসাব করবেন। ব্যবসার আয় থেকে
নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা সম্ভব কি বা না তা
আপনাকে নিশ্চিত করাটা সবচেয়ে জরুরি বিষয়

🟠 লোনের মোট খরচ কেমন সেটা বুঝে নিন

কেবলমাত্র, সুদের হার দেখলে যে হবে সেটা নয়।
লোনের Processing ফি, লোনের Service চার্জ,
লোন বিলম্বের জরিমানা বা অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ
আছে কি না তা জানাটা কিন্তু সবচেয়ে ভালো হবে

🟠 লোনের জন্য চুক্তিতে থাকা সব শর্ত দেখুন

লোন অনুমোদনের আগে চুক্তির সব শর্ত অবশ্যই
ভালোভাবে পড়ে বুঝবেন। কোনো বিষয় পরিষ্কার
না হলে ব্যাংক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে জানুন

ভুয়া অনলাইন লোন অফার থেকে সতর্ক হোন

Social মিডিয়া, অপরিচিত কোনো ব্যক্তি অথবা
Online Loan Website-র মাধ্যমে আসা যেকোনো
লোন অফারে ব্যক্তিগত তথ্য বা টাকা দিতে বললে।
আগে যাচাই করে নিবেন। বিশেষ করে বললে, আগে
টাকা দিলে লোন পাবেন। তেমন অফার থেকে সতর্ক
থাকা সবচেয়ে বেশি উচিত হতে পারে বলে মনে হচ্ছে






ব্যবসার জন্য ঋণ কিভাবে আনা যাবে তার উত্তর। প্রথমে, নিজের ব্যবসার প্রয়োজন আর ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দেখে কিন্তু উপযুক্ত Bank or Loan প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ঋণ আনা প্রয়োজন। তারপর, আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে তাদের উল্লেখিত নিয়মে আবেদন করতে হবে। তবে, ঋণ আনার আগে আপনি সেই ঋণের সুদ, কিস্তি, মেয়াদ, ফি, অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করে নিবেন। কারণ, ব্যবসার জন্য সঠিক পরিমাণের ঋণ ব্যবসাকে Grow করতে সাহায্য করবে। আবার, প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি ঋণ করলে ব্যবসার উপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়ে যেতে পারে অনায়াসে।