ইসলামের দৃষ্টিতে রজব মাসের ফজিলত আর করণীয় আমল সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত

Islamic Blog Banner Design Sowing Yellow AND Sky Colour Open Book AND Islamic Pattern Symbol on pink background


ইসলামী বছরের ক্যালেন্ডারে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত মাসের মধ্যে রজব মাস হচ্ছে অত্যন্ত বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস আর রজব মাস মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, আত্মশুদ্ধি, রমজানের জন্য মানসিক আর আমলগত প্রস্তুতির জন্য অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বলা যায়ঃ রজব মাসকে ঘিরে সমাজে অনেক ভুল রীতিনীতি আর ভিত্তিহীন আমল প্রচলিত রয়েছে যা আমাদের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই কুরআন আর সহিহ হাদিসের আলোকে রজব মাসের প্রকৃত ফজিলত আর রজব মাসের প্রকৃত করণীয় আমল জানাটা অত্যন্ত বেশি জরুরি বিষয়।


রজব মাস কী আর কেন মূল্যবান ???????????

রজব শব্দের অর্থ হলোঃ সম্মান করা বা মর্যাদা দেওয়া। কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ চারটি মাসকে হারাম বা সম্মানিত ঘোষণা করেছেনঃ মুহররম, রজব, যিলকদ, যিলহজ। মহান আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি তার মধ্য থেকে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত মাস। সেই সব মাসে গোনাহের কাজ যেমন অনেক বেশি মারাত্মক ঠিক তেমনি কিন্তু নেক আমলের সওয়াব অধিক পরিমাণ বেশি। রজব মাস মূলতঃ আত্মশুদ্ধি আর তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মূল্যবান সময় যেখানে সকল মুমিন নিজের করা ভুল অনুধাবন করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ পান পাশাপাশিঃ রজব মাস রমজান মাসের প্রস্তুতির জন্য অন্যতম আদর্শ পর্ব যেখানে ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে রজব মাস কোনো উৎসব পালন করার মাস নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে রজব মাস হচ্ছে সংযম, তাওবা, ইস্তিগফার আর সঠিক আমলের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার মূল্যবান সুযোগ মাস।


ইসলামের দৃষ্টিতে রজব মাসের সকল ফজিলত

ইসলামের দৃষ্টিতে রজব মাস হচ্ছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আর তাৎপর্যপূর্ণ মাস। রজব মাস মহান আল্লাহ ঘোষিত চারটি হারাম মাসের অন্যতম মাস আর সেই সব মাসে গোনাহের ভয়াবহতা বেশি আবার নেক আমলের সওয়াব অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। কুরআন মাজিদে সেই সব মাসের সম্মান রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যা রজব মাসের ফজিলতকে আরো অনেক বেশি স্পষ্ট করে। রজব মাস সকল মুমিন বান্দাকে আত্মসংযম, তাকওয়া, নৈতিকতার পথে চালিয়ে নিতে সহায়তা করে। রজব মাস মূলতঃ রমজানের প্রস্তুতির জন্য মূল্যবান সময় যেটা রমজান মাসের ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো সহজ মাধ্যম। সালাফে সালেহিনরা রজব মাসে বেশি বেশি করে তাওবা করতেন আর ইস্তিগফার করতেন সাথে অনেক বেশি নেক আমলে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। মনে রাখতে হবেঃ রজব মাসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ ইবাদত নির্ধারিত নয় তবু সাধারণ সব নেক আমল করা আর গোনাহের সকল কাজ বর্জন করা বা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য রজব মাস অনেক অনেক বেশি মূল্যবান মাস।


রজব মাসের করণীয় সকল আমল কী কী ?????

রজব মাসে সবচেয়ে মূল্যবান আমল হলোঃ সব ফরজ ইবাদত সঠিকভাবে আদায় করা আর গোনাহ থেকে বিরত থাকা। রজব মাসে বেশি বেশি তাওবা ইস্তিগফার করা উচিত যাতে অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের হৃদয়কে পরিপূর্ণ করা রজব মাসের অন্যতম করণীয় আমল। নফল নামাজ আর সাধারণ নফল রোজা রাখা অনেক বেশি সওয়াবের কাজ তবেঃ কোনো নির্দিষ্ট আমলকে সুন্নত মনে করা যাবে না পাশাপাশিঃ ধৈর্য, সংযম, সত্যবাদিতা, উত্তম চরিত্র চর্চার মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে তাকওয়ার বাস্তব অনুশীলন করাটাই রজব মাসের মূল উদ্দেশ্য।


রজব মাসে যেসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত

❌ রজব মাসে কোনো নির্দিষ্ট তারিখে বিশেষভাবে
নামাজ বা রোজাকে সুন্নত বা অন্য কিছু মনে করা
❌ শবে মিরাজ কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন আমল করা
❌ বিদআত আর কুসংস্কারের কাজে লিপ্ত থাকা
ইসলামে কোনো আমল গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা
অবশ্যই কুরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে


ইসলামের দৃষ্টিতে শবে মিরাজ আর রজব মাস

শবে মিরাজ ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত মূল্যবান আর শিক্ষণীয় ঘটনা যা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) জীবনের মহান মুজিজাসমূহের অন্যতম মুজিজা। শবে মিরাজের ঘটনা রজব মাসে সংঘটিত হয়েছে বলে বহু আলেম উল্লেখ করেছেন তবেঃ শবে মিরাজের নির্দিষ্ট তারিখের ব্যাপারে সহিহ আর চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায় না। ইসলামের দৃষ্টিতে শবে মিরাজের শিক্ষা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু সেই রাতকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত হিসেবে নামাজ বা উৎসব পালন করার কোনো নির্দেশ নেই। তাই রজব মাসে শবে মিরাজ উপলক্ষে বিদআত বা অতিরিক্ত আমল করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। শবে মিরাজের মূল শিক্ষা অনুযায়ী নামাজের মূল্য উপলব্ধি করে নিয়মিত ইবাদতে মনোযোগ দেওয়াই কিন্তু হচ্ছে সকল মুমিনের জন্য দায়িত্ব আর কর্তব্য।



রজব মাস কোনো উৎসব পালন করার মাস নয়। রজব মাস হচ্ছে আত্মশুদ্ধি করা আর গোনাহের কাজ বর্জন করা আর মহান আল্লাহর ইবাদতে ফিরে আসার মাস। রজব মাস আমাদেরকে শেখায় কীভাবে আস্তে আস্তে করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করে রমজান মাসের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হয়। সঠিক আকিদা আর সহিহ আমলের মাধ্যমে রজব মাস কাটাতে পারলেই আমরা মহান আল্লাহর রহমত আর বরকতের অংশীদার হতে পারব। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রজব মাসের যথাযথ সম্মান রক্ষা করে চলার তাওফিক দান করুক আর রজব মাসের সকল রহমত আর বরকত দান করুক 🤲 🤲 🤲 আমিন ছুম্মা আমিন

Post a Comment

Previous Post Next Post