জেনে নিন নতুনদের জন্য পাসপোর্ট করার নিয়ম আর সঠিক গাইডলাইন

Black, Yellow, Sky Colour Passport with world globe symbol ON Pink Background


বর্তমান বিশ্বে বিদেশে কাজ, পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণ কিংবা হজ্ব পালন করার প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেশি কিন্তু বেড়েছে আর সেই সব ক্ষেত্রে প্রথম আর সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হলোঃ পাসপোর্ট তৈরি করা বিশেষ করেঃ যারা প্রথমবার পাসপোর্ট করতে চান ????? তাদের কাছে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সময় জটিল আর অনেক বেশি বিভ্রান্তিকর মনে হয় বা হতে পারে। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই ভুল করেন বা অপ্রয়োজনীয় সকল ঝামেলায় পড়ে থাকেন। আমাদের আজকের কনটেন্টের মধ্যে নতুনদের জন্য পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয়তা, যোগ্যতা, কাগজপত্র, আবেদন করার পদ্ধতি আর মূল্যবান নির্দেশনা ইত্যাদি সহজ আর পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে যে কেউ কোনো প্রকারের কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের পাসপোর্ট নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন কিন্তু খুবই সহজেই।


পাসপোর্ট কী আর কেন প্রয়োজন হয় ????????

পাসপোর্ট হলোঃ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক পরিচয়পত্র যেটা কিন্তু যেকোনো দেশের নাগরিকের পরিচয় আর নাগরিকত্বতার প্রমাণ করে। পাসপোর্ট ছাড়া কিন্তু কোনো ব্যক্তিই কখনো বৈধভাবে দেশের বাইরে কাজ করতে বা ভ্রমণ করতে বা ইত্যাদি ইত্যাদি কোনো কিছুই করতে পারে না আর পারবে না। পাসপোর্টে ব্যাক্তির নাম, জন্মতারিখ, ছবি, ঠিকানা আর অন্যান্য সব প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষিত করা থাকে। বিদেশে কাজ, পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণ কিংবা হজ্ব পালনের জন্য পাসপোর্ট অত্যন্ত বেশি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তাছাড়াঃ বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো ভিসা পাওয়ার জন্য পাসপোর্ট অত্যন্তই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা। সংক্ষেপে বলতে গেলেঃ পাসপোর্ট হচ্ছে যেকোনো দেশের নাগরিকের আন্তর্জাতিক যাতায়াত করার অন্যতম প্রধান আইনি বা বৈধতার জন্য অনুমতিপত্র ব্যবস্থা।


বাংলাদেশে কোন পাসপোর্ট চালু রয়েছে ??????

বাংলাদেশে বর্তমানে যে পাসপোর্ট সিস্টেম চালু রয়েছে সেটা ই পাসপোর্ট e-Passport আর সেটাই বর্তমানে চালু রয়েছে। ই পাসপোর্ট হচ্ছে আধুনিক, ডিজিটাল, নিরাপদ পাসপোর্ট সিস্টেম যেটা কিন্তু বায়োমেট্রিক তথ্যসহকারে তৈরি করা হয়। ই পাসপোর্টে ঢোকানো হয় থাকার ঠিকানা, জন্মতারিখ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিজিটাল ছবি আর অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ফিচার যেটা তথ্য চুরি বা জালিয়াতি প্রতিরোধ করে। আগের MRP Passport যার পুরো নাম হচ্ছে ( মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ) Machine Rideable Passport পদ্ধতি বন্ধ হয়ে ই পাসপোর্ট বর্তমানে বাংলাদেশের চলমান পাসপোর্ট সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ই পাসপোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণে যেতে পারে আর বিশ্বের প্রায় সব দেশের যেকোনো ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে। ই পাসপোর্ট বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত আর নিরাপত্তামূলক পাসপোর্ট হিসেবেই গ্রহণযোগ্য।


নতুনদের জন্য পাসপোর্ট করার যোগ্যতা কেমন হতে হবে 🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔🤔

নতুন করে বা নতুনদের জন্য পাসপোর্ট করার জন্য
আবেদনকারীকে কিছু কিছু মৌলিক যোগ্যতা পূরণ
করতে হয় তা নিচে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলোঃ

🟠 আবেদনকারী বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
🟠 আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা
বয়স অনুযায়ী অনলাইন জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে
🟠 জন্ম তারিখ আর নামের তথ্য ইত্যাদি অন্যান্ন
সকল ডকুমেন্টে কিন্তু পুরোপুরিই সঠিক হতে হবে
🟠 বয়স আটারো বছরের কম হলে পিতা মাতা বা
আইনগতভাবেই অভিভাবকের সম্মতিটা প্রয়োজন
🟠 আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি
নিষেধাজ্ঞা অথবা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকা যাবে না
🟠 সঠিক ঠিকানা আর যোগাযোগ তথ্য দিতে হবে

সেই সব যোগ্যতা পূরণ করলে নতুন আবেদনকারী
সহজেই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন



পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র

পাসপোর্ট করার জন্য কিন্তু আবেদনকারীর বয়স বা
অবস্থাকে ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র
জমা দিতে হয় নিচে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হলোঃ

‌‌‌‌🟠 আবেদনকারীর বয়স 18 বছরের নিচে হয় তবে
🔸অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ 17 ডিজিট লাগবে
🔸পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
🔸যেকোনো অভিভাবকের সম্মতিপত্র থাকতে হবে
🔸সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রয়োজন হলে
🟠 আবেদনকারীর বয়স 18 বছরের বেশি হয় তবে
🔸জাতীয় পরিচয়পত্র NID কার্ড কিন্তু থাকতে হবে
🔸অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যদি সেটা থাকে তাহলেই
🔸প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ কপি
🟠 অন্যান্য প্রয়োজনীয় যেই সব কাগজপত্র লাগবে
🔸অনলাইন আবেদন করার ফরমের প্রিন্ট কপিটা
🔸পাসপোর্ট ফি পরিশোধের যেই রসিদ আছে সেটা
সকল কাগজপত্র দি সঠিক আর মিল থাকে তাহলে
কিন্তু পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়



জেনে নিন অনলাইনের মাধ্যমেই ই পাসপোর্টের আবেদন করার গাইডলাইন 😍😍😍😍😍😍

1️⃣ অনলাইন পাসপোর্ট আবেদন করা লাগবেঃ ই
পাসপোর্টের অয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলুন
সঠিক সকর তথ্য দিয়েই আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
পাসপোর্টের টাইপ আর ডেলিভারি সময় বেছে নিন
2️⃣ পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করতে হবেঃ সাধারণত
ফি তিন রকমের সিস্টেমের হয়ে থাকে যেটা যেমনঃ
Regular, Express, Super Express Passport
ফি অনলাইন বা ব্যাংকের দ্বারা পরিশোধ করা যায়
3️⃣ অ্যাপয়েন্টমেন্ট আর বায়োমেট্রিকঃ নির্ধারিত
তারিখে পাসপোর্টের অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে
যেখানে ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের স্ক্যান করা হবে
আর প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যাচাই বাছাই হবে
4️⃣ পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবেঃ কিছু ক্ষেত্রে কিন্ত
স্থানীয় থানার মাধ্যমে পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়
যদি তথ্য সঠিক থাকে তাহলে কোনো সমস্যা হয় না
5️⃣ পাসপোর্ট ডেলিভারির সময়ঃ নির্ধারিত সময়ের
মধ্যে মোবাইলে এসএমএস আসে যেটা সরাসরি
অফিস থেকে অথবা নিকটস্থ কুরিয়ারের সার্ভিসের
মাধ্যমে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যায় বা নিতে পারবেন


পাসপোর্ট করার জন্য যেই সব ভুল করা যাবে না

পাসপোর্ট করার সময় কিছু সাধারণ ভুলের কারণে পাসপোর্টের আবেদন বাতিল বা দেরি হতে পারে। পাসপোর্টের সবচেয়ে বড় ভুল হলোঃ জাতীয় পরিচয়পত্র আর জন্ম নিবন্ধনের সাথে নাম আর জন্মতারিখের অমিল রাখা। ঠিকানা ভুল বা অসম্পূর্ণ দিলে পুলিশ ভেরিফিকেশনে সমস্যা হয়। অনলাইন ফরম পূরণের সময় বানান ভুল করাটা কিন্তু অনেক বড় সমস্যা। অনেকেই ভুয়া বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র জমা দেন যেটা কিন্তু আইনগতভাবে অনেক বেশি জটিলতা তৈরি করতে পারে তাছাড়াঃ অন্যের মাধ্যমে আবেদন করে তথ্য যাচাই না করাটা কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আবার ফি পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ না করলে পরে সমস্যায় পড়তে হয়। সেই সব ভুল সংশোধন করে চললে পাসপোর্ট তৈরি করার প্রক্রিয়া খুব সহজ আর খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়।



জেনে নিন নতুনদের জন্য পাসপোর্ট করার কিছু টিপস যেটা খুবই কাজে আসবে ⭐⭐⭐⭐⭐

⭐ আপনার প্রয়োজনীয় সব রকম তথ্য NID আর
জন্ম নিবন্ধন কার্ডের সাথে মিলিয়ে রাখুন আর দেন
⭐ আবেদন করার আগে সব ডকুমেন্ট স্ক্যান করুন
⭐ দালালের মাধ্যমে না করে নিজে আবেদন করুন
⭐ রসিদ আর অ্যাপ্লিকেশন আইডি সংরক্ষণ করুন



পাসপোর্ট করতে কত সময় লাগতে পারে ?????

পাসপোর্ট করতে কত সময় লাগবে তা কিন্তু মূলতঃ
আবেদনকারীর নির্বাচিত ডেলিভারি টাইপ সাথে
প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার উপর কিন্তু নির্ভর করে মূলতঃ
বাংলাদেশে ই পাসপোর্ট পেতে যে সময় লাগে সেটা

Regular Passport Time : 21 থেকে 30 কর্মদিন
Express Passport Time : 7 থেকে 10 কর্মদিন
Super Express Time : 2 থেকে 3 কর্মদিন হয়
যেটা বিভিন্ন বিষয় অনুযায়ীই পরিবর্তন হয়ে থাকে

তবেঃ পুলিশ ভেরিফিকেশন আর তথ্য যাচাই বাছাই
বা ডকুমেন্টের সমস্যা থাকলে সময় কিন্তু কিছু বেশি
লাগতে পারে আর সঠিক তথ্য বা কাগজপত্র দিলে
সাধারণতঃ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট মিলে




পাসপোর্ট হচ্ছে যেকোনো দেশের নাগরিকের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের সবচেয়ে জরুরি দলিল। নতুনদের কাছে পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া জটিল মনে হয় তবেঃ পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য আর পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় গাইডলাইন জানা থাকলে সেটা কিন্তু খুবই সহজ হয়ে যায়। আমাদের আজকের কনটেন্টে আমরা পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা, যোগ্যতা, কাগজপত্র, আবেদন করার পদ্ধতি আর সম্ভাব্য ভুল সাথে সময় সম্পর্কে স্পষ্ট আইডিয়া দিয়েছি। সব তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে বলা যায়ঃ নিজে আবেদন করলে সময় আর অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়। পাসপোর্ট করার জন্য আপনাকে দালালের উপর নির্ভর না করে নিয়ম মেনে আবেদন করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ। আশা করি আমাদের আজকের কনটেন্ট নতুনদের জন্য পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে কিন্তু সম্পূর্ণ আর পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য অনন্য সহায়ক গাইডলাইন হিসেবেই কাজ করে থাকবে আবার কাজে আসবে।

Post a Comment

Previous Post Next Post