কী কী কারণে রোজা ভেঙ্গে যায়? ???? জেনে নিন রোজার করণীয় আর বর্জনীয় আমল সম্পর্কে

Colourful Islamic Banner Design sowing white and green ramadan lantern and yellow crescent moon, star, mosque minar symbol ON Pink Background


রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত, নাজাতের মাস আর রমজান মাসের সবচেয়ে মূল্যবান ইবাদত হচ্ছে ( রোজা ) যা মানুষের আত্মসংযম, তাকওয়া, আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয় তবেঃ অনেক সময় অজ্ঞতা বা ভুলের কারণে মানুষ কিছু কিছু কাজ করে ফেলে যা রোজা ভেঙ্গে দেয় বা রোজার সাওয়াব কমিয়ে দেয় আবারঃ কিছু কাজ আছে যেই কাজ করলে রোজা ভাঙ্গে না কিন্তু অনেকেই তা নিয়ে সন্দিহান থাকেন। রোজা সম্পর্কিত সঠিক বিধান জানা প্রতিটি রোজাদারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবোঃ
👉 রোজা ভাঙ্গার কারণ কয় ভাগ?
👉 কী কী কারণে রোজা ভেঙ্গে যায়?
👉 কী কারণে রোজার সাওয়াব কমে?
👉 রোজার করণীয় আমল কী কী?
👉 রোজার বর্জনীয় আমল কী কী?
👉 রোজা রেখে কী কী করলে সমস্যা নেই?
👉 রোজা ভেঙ্গে গেলে করণীয় বিষয় কী কী?
👉 রোজা স্বাস্থ্যের কী কী উপকারীতা করে?





রোজা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণ কয় ভাগ

রোজা ভঙ্গের কারণ দুই ভাগে বিভক্তঃ
১ ) সরাসরি রোজা পুরোপুরি ভেঙ্গে যায়
২ ) রোজা ভঙ্গ না হয়ে সাওয়াব কমে যায়


কী কী কারণে রোজা ভেঙ্গে যায়? ????

যে যে কারণে সরাসরি রোজা ভেঙ্গে যায়

নিচে উপস্থাপিত কাজ করলে রোজা ভেঙ্গে
যায় আর কাজা রোজা আদায় করতে হয়ঃ
🟠 ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করাঃ
রোজা অবস্থায় ইচ্ছা করে খাবার বা
পানীয় গ্রহণ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়
( ভুলে খেলে রোজা ভাঙ্গে না )
🟠 রোজা অবস্থায় সহবাস করাঃ
রোজা রেখে স্বামী আর স্ত্রীর সহবাস করলে
রোজা ভেঙ্গে যায় আর কাফফারা দিতে হয়
🟠 ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করাঃ
নিজে থেকে বমি করলে রোজা ভেঙ্গে যায়
তবে অনিচ্ছাকৃত বমিতে রোজা ভাঙ্গে না
🟠 ধূমপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণঃ
সিগারেট আর বিড়ি বা যেকোনো নেশাজাতীয়
খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়
🟠 শরীরে পুষ্টিকর ইনজেকশন নেওয়াঃ
যেসব ইনজেকশন শরীরে পুষ্টি বা শক্তি
দেয় সেই সব নিলে রোজা ভেঙ্গে যায়
🟠 ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটানো
হস্তমৈথুন বা যৌন উত্তেজনায় ইচ্ছাকৃত
বীর্যপাত ঘটালে রোজা ভেঙ্গে যায়।



কী কী কারণে রোজার সাওয়াব কমে?

রোজার সাওয়াব কমে যাওয়ার কারণ

নিচে উপস্থাপিত কাজ করলে রোজা
ভাঙ্গে না তবেঃ সওয়াব কমে যায়ঃ
× মিথ্যা কথা বলা
× অন্যের গীবত করা
× অযথা গালি দেওয়া
× ঝগড়া বিবাদ করা
× অশ্লীল কথা বা কাজ
× হারাম কাজ করা
× রাগ নিয়ন্ত্রণ না করা
হাদিসে বলা হয়েছেঃ যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা
আর মন্দ কাজ ত্যাগ করে না তার পানাহার
ত্যাগ করার আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই



রোজার বর্জনীয় আমল কী কী?

রোজার জন্য কিছু করণীয় আমল

রোজা কেবলমাত্র না খেয়ে থাকা নয়
আত্মগঠনের ইবাদত আর সেজন্যঃ
কিছু আমল করা অত্যন্ত মূল্যবান
⭐ প্রতিদিন সেহরি খাওয়াঃ
সেহরি খাওয়া সুন্নত তাতে বরকত রয়েছে
⭐ সময়মতো ইফতার করাঃ
সূর্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নত
⭐ বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করাঃ
পবিত্র মাহে রমজান মাস হচ্ছে কুরআনের
মাস সেজন্যঃ বেশি তিলাওয়াত করা উচিত
⭐ দোয়া আর ইস্তিগফার করাঃ
রোজাদারের দোয়া কবুল হয়
সেজন্যঃ বেশি দোয়া করা উচিত
⭐ বেশি বেশি দান সদকা করাঃ
রমজানে দান সদকার সাওয়াব বেশি
⭐ প্রতিদিন তারাবির নামাজ পড়াঃ
রমজানের বিশেষ ইবাদত হচ্ছে তারাবি



রোজার বর্জনীয় আমল কী কী?

রোজার জন্য কিছু বর্জনীয় আমল

রোজার সময় যে কাজ করা উচিত নয়
সেই সব কাজের যার মধ্যে রয়েছেঃ
• অপ্রয়োজনীয় সব কথা বলা
• বেশি ঘুমানো বা বিশ্রাম করা
• অযথা অকারণে সময় নষ্ট করা
• মোবাইলে অশ্লীল কনটেন্ট দেখা
• অন্যের সাথে ঝগড়া বিবাদ করা
• অন্যের গীবত আর পরনিন্দা করা
• অলসতা বা অলসভাবে দিন কাটানো



রোজা রেখে কী কী করলে সমস্যা নেই?

রোজা অবস্থায় অনেকেই মনে করেন দৈনন্দিন কিছু কাজ করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে কিন্তু ইসলামি শরিয়তে সেই সব কাজের কারণে রোজা নষ্ট হয় না যেমনঃ ভুলে খাবার বা পানি খেলে রোজা ভাঙ্গে না; মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজা চালিয়ে যেতে হয়। দাঁত ব্রাশ করা বা মিসওয়াক করা বৈধ তবেঃ কিছু গিলে ফেলা যাবে না। গোসল করা আর মাথায় পানি দেওয়া বা সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করা। চোখে কাজল দেওয়া আর রক্ত পরীক্ষা করা বা ইনজেকশন ( পুষ্টিকর ইনজেকশন ছাড়া ) নেওয়া অনুমোদিত। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সাধারণ স্পর্শ বা ভালোবাসা প্রকাশে রোজা ভাঙ্গে না যতক্ষণ না সহবাস বা বীর্যপাত ঘটে। সব শেষে বলা যায়ঃ অযথা সন্দেহ না করে সঠিক জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা জরুরি।



রোজা ভেঙ্গে গেলে করণীয় কী কী?

রোজা ভঙ্গ হলে করণীয় বিষয় সমূহ

রোজা ভেঙ্গে গেলে করণীয় বিষয় যেটা সেটা পরিস্থিতি অনুযায়ী করণীয় নির্ধারিত হয়। যদি ভুলে খাওয়া বা পান করার কারণে রোজা ভেঙ্গে গেছে মনে হয় তবে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করে রোজা চালিয়ে যেতে হবে তাতে রোজা নষ্ট হয় না তবেঃ ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার, ধূমপান, যৌনকর্মের মাধ্যমে রোজা ভেঙ্গে গেলে সেই দিনের রোজা কাজা করতে হবে। স্বামী স্ত্রীর সহবাসের কারণে রোজা ভেঙ্গে গেলে কেবলমাত্র কাজা নয়; সেটা কাফফারা আদায় করতে হয়। অসুস্থতা, ভ্রমণ, শারীরিক দুর্বলতার কারণে রোজা ভেঙ্গে দিলে পরে সুস্থ হলে কাজা রাখা যথেষ্ট। সব শেষে বলা যায়ঃ রোজা ভঙ্গ হলে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী দ্রুত তাওবা করা আর প্রয়োজনীয় কাজা বা কাফফারা আদায় করা নেওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি করণীয় বিষয়।



রোজা স্বাস্থ্যের কী কী উপকারীতা করে?

রোজা রাখার স্বাস্থ্যের উপকারিতা সমূহ

রোজা কেবলমাত্র আধ্যাত্মিক ইবাদতই নয়; তার মূল্যবান বিষয়ের মধ্যে স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে হজমতন্ত্র বিশ্রাম পায় আর শরীরের বিপাকক্রিয়া সুশৃঙ্খল হয়। তাতে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সাহায্য করে ফলেঃ উজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। রোজা রক্তে শর্করা আর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে তাছাড়াঃ নির্দিষ্ট সময় খাবার গ্রহণের অভ্যাস শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে আর মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়। সংযম আর খাদ্যনিয়ন্ত্রণের কারণে বদহজম আর অতিভোজনজনিত সমস্যা কমে যায় আর সেজন্যঃ নিয়ম মেনে রোজা রাখা শারীরিক আর মানসিক সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।





রোজা মুসলমানের জন্য আত্মসংযম, তাকওয়া, আত্মগঠনের অনন্য ইবাদত। রোজা অবস্থায় কোন কাজ করলে রোজা ভেঙ্গে যায় আর কোন কাজ করলে সাওয়াব কমে যায় বা রোজা হালকা হয়ে যায় আর কোন কাজ করলে কোনো সমস্যা হয় না সেই সব বিষয় সঠিকভাবে জানা অত্যন্ত জরুরি। ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা, ধূমপান, সহবাস করলে রোজা নষ্ট ভেঙ্গে যায় আর মিথ্যা, গীবত, ঝগড়া রোজার সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় মানে রোজার সাওয়াব কমিয়ে দেয় বা রোজা হালকা করে দেয় অন্যদিকেঃ সেহরি, ইফতার, কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করা দোয়া আর দান সদকার মতো আমল রোজাকে পরিপূর্ণ করে। রোজা ভঙ্গ হলে শরিয়ত অনুযায়ী কাজা বা কাফফারা আদায় করা উচিত। সঠিক জ্ঞান আর সচেতনতার মাধ্যমে রোজাকে কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নয়; জীবন গঠনের পূর্ণাঙ্গ ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করাই আমাদের সকলের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

Post a Comment

Previous Post Next Post