রোজা রেখে দাঁত ব্রাশ করা যাবে কি যাবে না? ???? জেনে নিন বিস্তারিত মাসআলা

white, black, yellow, green and sky colour teeth, toothpaste, brush symbol ON Pink Background


রমজান মাসে পুরো ত্রিশ দিন বা প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখতে হয় আর সেই সময় কোনো কিছু খাওয়া দাওয়া বা পান করা আর শরীরে কিছু প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা ফরজ তবেঃ দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা যেমনঃ মুখ আর দাঁত পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে বেশি মূল্যবান বিষয়। অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে 🤔🤔🤔 রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা যাবে কি না? ইসলামী শরিয়তের আলোকে সেই বিষয়টা জানা অত্যন্ত বেশি জরুরি যাতে রোজা ভঙ্গ না হয় আর সুস্থ আর পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে। আমাদের স্মার্ট ব্লগ জোনের আজকের কনটেন্টে আমরা জানবোঃ
👉 রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা যাবে কি না?
👉 রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম
👉 রোজা অবস্থায় কোন সময় দাঁত ব্রাশ ভালো?
👉 টুথপেস্ট ব্যবহার করলে রোজা কি ভেঙ্গে যাবে?
👉 ইসলামে দাঁত পরিষ্কারের সুন্নত পদ্ধতি কী কী?
👉 রোজা রেখে দাঁত ব্রাশ করা কি মাকরূহ হবে?
👉 রোজা অবস্থায় মুখের দুর্গন্ধের সঠিক সমাধান
বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানবোঃ আর সেটা সকল রোজা পালনকারীদের জন্য অত্যন্ত বেশি মূল্যবান নির্দেশিকা হবে যা সকলের দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা আর ইবাদত দুটোই কিন্তু সঠিকভাবে বজায় রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

রিলেটেড আরো কনটেন্ট পড়তে পারেন





রোজা রেখে দাঁত ব্রাশ করা যাবে কি না? ????

রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা যাবে কি না সেটার সমাধান হলোঃ রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ নিজে থেকে রোজা ভঙ্গ করে না কারণঃ দাঁত পরিষ্কার করা খাওয়া দাওয়া বা শরীরে কিছু প্রবেশ করানোর অন্তর্ভুক্ত নয় তবেঃ শর্ত হচ্ছে ব্রাশ করার সময় টুথপেস্ট, পানি, ফেনা যেনো গলায় না যায় বা গলায় ঢুকে না পরে। যদি অসাবধানতাবশত কিছু গিলে ফেলা হয় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। সেই কারণে অনেক ফকিহ টুথপেস্ট সহ দাঁত ব্রাশ করাকে মাকরূহ বলেছেন কারণঃ তাতে গিলে ফেলার ঝুঁকি থাকে। ইসলামে রোজা অবস্থায় দাঁত পরিষ্কারের উত্তম পদ্ধতি হলোঃ মিসওয়াক ব্যবহার করা যা সুন্নত আর দাঁত ব্রাশের সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি। তাই বলা যায়ঃ সতর্কতার সাথে দাঁত ব্রাশ করা জায়েজ তবেঃ নিরাপত্তার জন্য সেহরির আগে বা ইফতারের পরে দাঁত ব্রাশ করা কিন্তু সবচেয়ে বেশি উত্তম।


রোজা অবস্থায় ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম সমূহ

রোজা রেখে দাঁত পরিষ্কার করতে চাইলে নিচের
উপস্থাপিত নিয়ম মানলে নিরাপদ থাকবেনঃ
1️⃣ ফজরের আগে দাঁত ব্রাশ করে নিন
2️⃣ দিনে দাঁত ব্রাশ করলে সতর্ক থাকুন
3️⃣ টুথপেস্ট কম করে ব্যবহার করুন
4️⃣ ফেনা বা পানি গিলে ফেলবেন না
5️⃣ ভালোভাবে কয়েকবার কুলি করুন

আমাদের আরো কনটেন্ট পড়তে পারেন



কোন সময় দাঁত ব্রাশ করা ভালো? ????

ইসলামী দৃষ্টিতে সময়ভেদে ব্রাশ করার হুকুম
পরিবর্তিত হয় না তবেঃ সতর্কতার জন্য কিন্তু
👉 সেহরির পরে দাঁত ব্রাশ করার চেষ্টা করুন
👉 ফজরের আগে দাঁত ব্রাশ করার চেষ্টা করুন
👉 নতুবা ইফতারের পরে দাঁত ব্রাশ করে নিন
• সেই সব সময় সবচেয়ে বেশি নিরাপদ সময়
• দিনে রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা বৈধ কিন্তু
সেটাতে অনেক বেশি ঝুঁকি থাকে রোজা ভাঙ্গার


রোজা অবস্থায় টুথপেষ্ট ব্যবহার করা কি যাবে?

টুথপেস্ট ব্যবহার করলে রোজা কি ভেঙ্গে যাবে?

সেই বিষয়টা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন?
👉 টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করলেঃ
• যদি কিছু গলায় না যায় তবেঃ রোজা থাকবে
• যদি টুথপেস্ট বা টুথপেষ্টের ফেনা গিলে ফেলেন
তবেঃ রোজা ভেঙ্গে যাবে কারণঃ টুথপেস্টের স্বাদ
আর কণিকা মুখে থাকে যা গলায় চলে যাওয়ার
ঝুঁকি বেশি আর সেজন্যঃ অনেক আলেম টুথপেস্ট
ব্যবহারে সতর্কতা বা অপছন্দ ( মাকরূহ ) বলেছেন


ইসলামে দাঁত পরিষ্কার করার সুন্নত পদ্ধতি সমূহ

ইসলামে মুখ আর দাঁত পরিষ্কার রাখাকে অত্যন্ত বেশি মূল্য দেওয়া হয়েছে। রাসূল ﷺ মিসওয়াক ব্যবহার করতেন আর সকল মুসলমানদেরকে মিসওয়াক ব্যবহার করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। হাদিসে শরীফে আছেঃ মিসওয়াক মুখ আর দাঁতকে পবিত্র রাখে আর আল্লাহর সন্তুষ্টি আনে। রোজা অবস্থায় মিসওয়াক ব্যবহার করা সবচেয়ে উত্তম কারণঃ তাতে রোজা ভাঙ্গার কোনো ঝুঁকি নেই তাছাড়াঃ শোকনো ব্রাশ ব্যবহার করা বা পানি দিয়ে কুলি করা জায়েজ তবেঃ টুথপেস্ট ব্যবহার করলে সতর্ক থাকতে হবে যাতে কিছু গিলে না যায়। সহজ কথায় বলা যায়ঃ ইসলামে দাঁত পরিষ্কার করার সুন্নত হলোঃ মিসওয়াক ব্যবহার করা আর রোজা অবস্থায় সাবধানতার সঙ্গে মুখ পরিষ্কার করা।

আমাদের আরো কনটেন্ট পড়তে পারেন



রোজা রেখে দাঁত ব্রাশ করা কি মাকরূহ হবে?

ফিকহের কিছু মত অনুযায়ীঃ টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত
ব্রাশ করা মাকরূহ কারণঃ টুথপেষ্টের গন্ধ গলায়
যেতে পারে তার বদলে ব্যবহার করা যেতে পারেঃ
• মিসওয়াকঃ মিসওয়াক করা সুন্নত আর উত্তম
• শোকনো টাইপের ব্রাশঃ যেটা জায়েজ আছে
সহজ কথায় বললেঃ নিষিদ্ধ নয়; সতর্কতা জরুরি
আর দাঁত ব্রাশ করার বদলে মিসওয়াক করা ভালো
প্রচলিত কিছু ভুলঃ ব্রাশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়
অনেকেই মনে করেন যে রোজা রেখে ব্রাশ করা
মানে রোজা ভেঙ্গে যায় বা যাবে আসলে সেটা ভুল
সঠিক মাসআলা হলোঃ
👉 কিছু গিলে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যায়
👉 কেবলমাত্র ব্রাশ করলে রোজা ভাঙ্গে না
আরো কিছু উদাহরন যেমনঃ
• মুখ ধোলে রোজা ভাঙ্গে না
• কুলি করলে রোজা ভাঙ্গে না
• দাঁত পরিষ্কার করলে ভাঙ্গে না


রোজা অবস্থায় মুখের দুর্গন্ধের সমাধান

দীর্ঘ সময় না খাওয়ার কারণে রোজা অবস্থায় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে যেই বিষয়টা কিন্তু স্বাভাবিক। সেই সমস্যা কমানোর জন্য কয়েকটি পদ্ধতি আছে। রোজা মাসে মুখের দুর্গন্ধ কমানোর উত্তম সমাধান হলোঃ মিসওয়াক ব্যবহার করা যা সুন্নত আর মুখকে সতেজ রাখে তাছাড়াঃ টুথপেস্ট ছাড়া ব্রাশ করা আর পানি দিয়ে কুলি করা বা জিহ্বা পরিষ্কার রাখা সহায়ক। সেহরি আর ইফতারের সময় পর্যাপ্ত পানি পান করলে মুখের শোষ্কতা কমে আর গন্ধ হ্রাস পায়। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা আর সুন্নত পদ্ধতি মেনে চললে রোজা অবস্থায় মুখের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব আর ইবাদতের সাথে সাথে কিন্তু দৈনন্দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা যায়।

আমাদের আরো কনটেন্ট পড়তে পারেন






রোজা রাখা কেবলমাত্র খাদ্য আর পানির বিরতিই নয়; সেটা আত্মগঠন আর ইবাদত করার মূল্যবান অংশ কিন্তু দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। ইসলামী শরিয়তের আলোকে দেখা যায়ঃ রোজা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা নিজে থেকে রোজা ভঙ্গ করে না যতক্ষণ পর্যন্ত টুথপেস্ট বা পানি গিলে না যায়। নিরাপদ আর সুন্নত পদ্ধতি হলোঃ মিসওয়াক ব্যবহার করা যা মুখকে পরিষ্কার রাখে আর রোজার সময় রোজা ভাঙ্গার কোনো ঝুঁকি নেই তাছাড়াঃ শোকনো ব্রাশ বা পানি দিয়ে কুলি করা জায়েজ আছে তবেঃ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। রোজা অবস্থায় মুখের দুর্গন্ধ কমাতে নিয়মিত মিসওয়াক করা আর কুলি করা বা পর্যাপ্ত পানি পান করা মূল্যবান। সব শেষে বলা যায়ঃ রোজা রেখে দাঁত পরিষ্কার করা বা দাঁত ব্রাশ করা সম্ভব কিন্তু সতর্কতা আর সুন্নত পদ্ধতি মেনে চলা আবশ্যক। তাতে ইবাদত আর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা দুটোই কিন্তু বজায় থাকে আর রোজার মাহাত্ম্য ক্ষুণ্ণ হয় না।

Post a Comment

Previous Post Next Post